চিঠির উপযুক্ত প্রাপকের বিলুপ্তি
মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৭:৪২ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
চিঠি লিখবার মতো হাজারো কথার ঝুড়ি
আজও জমে আছে বুকের ভেতর—
কত না বলা কথা, কত অভিমান,
কত অশ্রুভেজা রাতের গল্প, কতটা ভালোবাসা শব্দের কাছে এসে প্রতিদিন ফিরে যায়।
শুধু—সে চিঠি পড়বার মতো কেউ নেই,
নেই বোঝবার মতো কোনো মন,
নেই এমন কোনো মানুষ
যে অক্ষরের ফাঁকে ফাঁকে
আমার নীরব কান্নাটুকুও পড়ে নিতে পারে।
এ জগৎ-সংসারে সবারই ভীষণ ব্যস্ততা—
কেউ সময়ের কাছে বন্দী, কেউ প্রয়োজনের কাছে, কেউ আবার নিজের সুখের আয়নায়
এতটাই মগ্ন যে অন্যের চোখের জল
দেখবার অবকাশটুকুও নেই।
তাই চিঠিগুলো আর লেখা হয় না,
ডায়েরির পাতাগুলোও অপঠিত
অভিমানে হলুদ হয়ে যায়।
একদিন যে চিঠির অপেক্ষায়
একটি হৃদয় সারারাত জেগে থাকত,
আজ সেই চিঠিই
প্রাপকের অভাবে নিজের অস্তিত্ব হারিয়েছে।
চিঠিরও তো একজন প্রাপক লাগে—
যে খুলে পড়বে, ভুল বানানেও অনুভূতি খুঁজবে, অগোছালো বাক্যের ভেতর
আমার ভেঙে পড়া মানুষটাকে চিনবে।
কিন্তু প্রাপক কোথায়?
তাই আজকাল চিঠি আর ডাকবাক্সে যায় না— বুকের ভেতরেই পড়ে থাকে, অপ্রেরিত,
অপঠিত, অব্যক্ত এক দীর্ঘশ্বাস হয়ে।
হয়তো কোনো একদিন আমার সব না-বলা কথা নীরবতার কাছে জমা হবে,
আর পৃথিবী জানবেও না—
একজন মানুষ ছিল, যার হৃদয়ে
হাজারো চিঠি লেখা হয়েছিল।
শুধু—একটি চিঠিরও উপযুক্ত প্রাপক ছিল না।
আর সেদিন বুঝবে পৃথিবী—
চিঠির আত্মপ্রকাশ বিলুপ্ত হয়নি,
বিলুপ্ত হয়েছে শুধু চিঠি বোঝার মতো মানুষ।
১৭২ বার পড়া হয়েছে