সর্বশেষ

রাজনীতি

জনগণের ভোটে বিএনপি ক্ষমতায়, আস্থা ধরে রাখাই চ্যালেঞ্জ: রিজভী

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৮:২৫ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
দীর্ঘ রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামের পর জনগণের ভোটে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে উল্লেখ করে দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, এখন দলের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে জনগণের আস্থা ও জনপ্রিয়তা ধরে রাখা। এ জন্য নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকারকে কাজ করতে হবে।

বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর জিয়া উদ্যানে দলটির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়া শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন রুহুল কবির রিজভী।

রিজভী বলেন, ৪৮ বছর আগে জিয়াউর রহমান স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা, বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং দেশের উন্নয়ন, উৎপাদন ও আত্মনির্ভরশীলতার লক্ষ্য নিয়ে বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তাঁর নীতি, আদর্শ ও দর্শনকে সামনে রেখে বিএনপি এগিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপির এই নেতা দাবি করেন, শিক্ষা, সংস্কৃতি, বৈদেশিক ও অভ্যন্তরীণ নীতি এবং আইনশৃঙ্খলাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জিয়াউর রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর মতে, বিএনপি প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে দেশে বহুদলীয় রাজনীতি ও মতপ্রকাশের সুযোগ তৈরি হয়েছিল।

১৯৭৫ সালে বাকশাল প্রতিষ্ঠার পর সংবাদপত্র বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল—এমন দাবি করে রিজভী বলেন, পরবর্তী সময়ে সংবাদপত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠায় জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার ভূমিকা ছিল। বিদেশে শ্রমশক্তি পাঠানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিতেও জিয়াউর রহমান ভূমিকা রেখেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এরশাদবিরোধী আন্দোলনের প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়া দীর্ঘ নয় বছর আন্দোলন করেছেন। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সেই আন্দোলনে তিনি আপস করেননি বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব।

রিজভীর ভাষ্য, রাজনৈতিক প্রতিকূলতা, নিপীড়ন ও নানা বাধার মধ্যেও খালেদা জিয়া দল ও দেশের নেতৃত্ব দিয়েছেন। কারাবন্দি অবস্থায়ও তিনি রাজনৈতিক অবস্থান থেকে সরে যাননি। তাঁর নেতৃত্ব বিএনপির নেতা-কর্মীদের আন্দোলনে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

খালেদা জিয়া কারাবন্দি থাকার সময় তাঁর জ্যেষ্ঠ ছেলে তারেক রহমান দলের দায়িত্ব পালন করেছেন বলেও উল্লেখ করেন রিজভী। তাঁর দাবি, তারেক রহমানের নেতৃত্বে ২০১৮ সাল থেকে শুরু হওয়া আন্দোলন পরবর্তী সময়ে বৃহত্তর গণআন্দোলনে রূপ নেয় এবং ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটে।

বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে তারেক রহমান কাজ করছেন। সামাজিক সুরক্ষা, উন্নয়ন ও উৎপাদনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের বিষয়ে রিজভী বলেন, এটি শুধু বাংলাদেশের বা সরকারের একক সমস্যা নয়; আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিরও প্রভাব রয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা এবং জ্বালানি পরিবহনকারী জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রভাব বাংলাদেশে পড়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

সংকট মোকাবিলায় সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বরাদ্দের বাইরে আরও প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মহেশখালীর একটি টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটি মেরামতের পর গ্যাস রিগ্যাসিফিকেশন আবার শুরু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অঙ্গীকার তুলে ধরে রিজভী বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা গণতান্ত্রিক চেতনা, জনগণের সামাজিক সুরক্ষা এবং দেশের উন্নয়ন ও উৎপাদনের লক্ষ্য বাস্তবায়নই এখন দলের প্রধান দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে বিএনপির ৩১ দফা, নির্বাচনী ইশতেহার এবং খালেদা জিয়ার ভিশন-২০৩০কে ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম মনি, যুগ্ম মহাসচিব আব্দুস সালাম আজাদসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

১৩৩ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
রাজনীতি নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন