রাজধানীর মোহাম্মদপুরে আগুনে পুড়ে কুষ্টিয়ার নেওয়াজ চৌধুরী মিতুর মৃত্যু
মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৬:৫৮ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের চন্দ্রিমা হাউজিংয়ে একটি বাসায় অগ্নিকাণ্ডে নেওয়াজ চৌধুরী মিতু (৫৭) নামের এক ব্যক্তি মারা গেছেন। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ভোরে ঘুমন্ত অবস্থায় আগুনে পুড়ে তাঁর মৃত্যু হয়। আগুনে তাঁর বাসার আসবাবপত্রসহ প্রায় সবকিছু পুড়ে গেছে।
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের চন্দ্রিমা হাউজিংয়ে মঙ্গলবার ভোরে একটি বাসায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কুষ্টিয়ার নেওয়াজ চৌধুরী মিতু (৫৭) মারা গেছেন। ভোর আনুমানিক সাড়ে পাঁচটার দিকে তাঁর বাসায় আগুনের সূত্রপাত হয়।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। তবে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রয়োজন।
আগুন লাগার সময় মিতু বাসার ভেতরে ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলেন। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে তিনি আটকা পড়েন এবং দগ্ধ হয়ে মারা যান। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং তাঁকে উদ্ধার করেন। তাঁকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় তাঁর বাসার আসবাবপত্রসহ অন্যান্য মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ কুষ্টিয়ায় নেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে মোহাম্মদপুর থানায় প্রয়োজনীয় কার্যক্রম করা হয়েছে। পরে রাজধানীর বাবর রোডের আল-মারকাজুল ইসলামীতে মরদেহ গোসল করানো হয়। জানাজা ও দাফনের সময় পরে জানানো হবে।
নেওয়াজ চৌধুরী মিতুর সঙ্গে ১৯৯৮ সালে কুষ্টিয়ার শীর্ষস্থানীয় দৈনিক ‘আন্দোলনের বাজার’ পত্রিকা কার্যালয়ে সময় কাটাতেন। সে সময় তিনি পত্রিকাটির সম্পাদক ও প্রকাশক মনজুর এহসান চৌধুরীর ভাতিজা ও সহযোদ্ধা হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
নেওয়াজ চৌধুরী মিতু কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের স্বনামধন্য আব্দুল জলিল বিশ্বাসের নাতিছেলে। তিনি কুষ্টিয়া শহরের পূর্ব মজমপুরের মরহুম চৌধুরী সুলতান সালাউদ্দিনের বড় ছেলে।
কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র মিতু নব্বইয়ের দশকের শেষভাগে কিছু সময় সাংবাদিকতার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। পরবর্তী সময়ে তিনি পেশাদার ঠিকাদারি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হন।
কয়েক বছর ধরে তিনি রাজধানীর মোহাম্মদপুরে বসবাস করছিলেন।
মিতুর মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন, সহকর্মী ও পরিচিতজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মৃত্যুকালে তিনি অসুস্থ মা, স্ত্রী, দুই কন্যা, ছোট ভাই-বোন মালা ও মিঠুসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
তাঁর জানাজা ও দাফনের সময় পরে জানানো হবে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
১৬৯ বার পড়া হয়েছে