বগুড়ায় যুবককে রাতভর নির্যাতনের পর রগ কেটে হত্যা
মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৭:০৪ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
বগুড়ায় চোর সন্দেহে শামীম হোসেন নামের এক যুবককে রাতভর অমানুষিক নির্যাতন ও পায়ের রগ কেটে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। পরে প্রশাসনের দ্রুত বিচারের আশ্বাসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
পুলিশ ও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নিহত শামীম হোসেন বগুড়া সদর উপজেলার নামুজা ইউনিয়নের চৌমহনী এলাকার আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে। সোমবার রাতে তিনি বারপুর এলাকায় এক নিকটাত্মীয়ের দাফনকার্যে অংশ নিতে গিয়েছিলেন। সেখানে রাতের বেলা হাঁটাহাঁটির একপর্যায়ে স্থানীয় কিছু ব্যক্তি তাকে চোর সন্দেহে আটকে রাখে।
নিহতের স্বজনরা অভিযোগ করে জানান, চোর অপবাদ দিয়ে শামীমের ওপর মধ্যযুগীয় কায়দায় বর্বর নির্যাতন চালানো হয়। রাতভর মারধর ও নির্যাতনের শেষ পর্যায়ে ঘাতকেরা তার পায়ের রগ কেটে দিয়ে একটি নির্জন পরিত্যক্ত স্থানে ফেলে রেখে চলে যায়। পরবর্তীতে খবর পেয়ে গ্রাম পুলিশ রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার ভোররাতে শামীমের মৃত্যু হলে এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে সকাল থেকেই ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী নিশিন্দারা ইউনিয়ন পরিষদের সামনের সড়কে অবস্থান নেন। তারা সড়কে কাঠের গুঁড়ি ফেলে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ করে দেন, যার ফলে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহিম আলী দ্রুত পুলিশ ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তিনি উত্তেজিত বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে অপরাধীদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির নিশ্চয়তা প্রদান করেন। প্রশাসনের এই আশ্বাসের পর সকাল সাড়ে আটটার দিকে এলাকাবাসী অবরোধ প্রত্যাহার করে নিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। বর্তমানে নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
১১০ বার পড়া হয়েছে