সর্বশেষ

সারাদেশ

আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপি—সব আমলেই দাপুটে লুবানা শম্পা

স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট
স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট

মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৬:০২ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
কখনো আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী মন্ত্রী-এমপিদের ঘনিষ্ঠজন, কখনো আবার বিএনপির নীতিনির্ধারকদের আস্থাভাজন—সিলেটের রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক অঙ্গনে লুবানা ইয়াসমিন শম্পাকে ঘিরে উঠেছে নানা অভিযোগ। ক্ষমতার পটপরিবর্তনের সঙ্গে রাজনৈতিক বলয় বদলে প্রভাব ধরে রাখা, মেলার অনুমতি ও অর্থনৈতিক অনিয়মসহ বিভিন্ন অভিযোগে তিনি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

কখনো আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী মন্ত্রী-এমপিদের ঘনিষ্ঠজন, কখনো আবার বিএনপির নীতিনির্ধারকদের আস্থাভাজন—সিলেটের রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক অঙ্গনে লুবানা ইয়াসমিন শম্পা এক রহস্যময় নাম। ক্ষমতার পটপরিবর্তন হলেও যার প্রভাব কমে না, বরং খোলস পাল্টে যিনি আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠেন। সিলেট উইমেন্স চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির বর্তমান এই সভাপতির বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় জমেছে। ক্ষমতার দাপট, আর্থিক অনিয়ম এবং সিন্ডিকেট রাজনীতির মাধ্যমে তিনি এখন সিলেটজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন এবং সাবেক সংসদ সদস্য শফিউল আলম চৌধুরী নাদেলের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন লুবানা শম্পা। সেই সময় ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে তিনি ও তার স্বামী মামুন বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দফতর থেকে বড় বড় কাজ ভাগিয়ে নেন এবং বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হন। এমনকি তৎকালীন উইমেন্স চেম্বার সভাপতি স্বর্ণলতা রায়ও শম্পার প্রভাবের কাছে কোণঠাসা ছিলেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাতারাতি ভোল পাল্টাতে শুরু করেন শম্পা। নিজের আধিপত্য ধরে রাখতে তিনি দ্রুত বিএনপির প্রভাবশালী নেতা আরিফুল হক চৌধুরীর বলয়ে আশ্রয় নেন। এই বলয়ের আশীর্বাদে ২০২৫ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর প্রায় এক দশক পর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সিলেট উইমেন্স চেম্বারের সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি। তবে ক্ষমতার লোভে তিনি বেশিদিন এক বলয়ে স্থির থাকেননি। সুবিধা বুঝে পরবর্তীতে তিনি সরকারের বর্তমান প্রভাবশালী মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের বলয়ে ভিড়ে যান। বর্তমানে তিনি ঢাকায় প্রভাবশালী সংসদ সদস্যদের সঙ্গে সরকারি গাড়ি ব্যবহার করে নিজের কাজ হাসিল করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

লুবানা শম্পার বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগ উঠেছে বিয়ানীবাজার উপজেলার মেলার অনুমতি নিয়ে। বিএনপির শীর্ষ নেতাদের নাম ভাঙিয়ে তিনি মেলার অনুমতি পান, যা পরবর্তীতে স্থানীয় চেম্বারকে না জানিয়ে এক মেলা ব্যবসায়ীর কাছে ২৫ লাখ টাকায় বিক্রি করে দেন। অথচ উইমেন্স চেম্বারকে জানানো হয়, মেলাটি মাত্র ৮ লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। এই অর্থ আত্মসাতের খবর জানাজানি হলে সংগঠনের ভেতরে চরম অসন্তোষ দেখা দেয়। প্রতিবাদী সদস্যদের শম্পা সরাসরি বহিষ্কারের হুমকি দিয়ে মুখ বন্ধ রাখেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সম্প্রতি শাহী ঈদগাহ মাঠে বাণিজ্য মেলা আয়োজনের জন্য তিনি বর্তমান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের নাম ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কাছে গিয়ে তিনি দাবি করছেন, ‘মন্ত্রীরা নির্দেশ দিয়েছেন মেলার অনুমতি দেওয়ার জন্য।’ ২৯ আগস্ট উইমেন্স চেম্বারের অফিসে বসে সিলেট ছাত্রদল ও যুবদলের কতিপয় নেতার সঙ্গে মোটা অঙ্কের টাকায় শাহী ঈদগাহ মাঠে মেলা আয়োজনের একটি গোপন চুক্তিও তিনি সম্পাদন করেছেন বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে।

সিলেট উইমেন্স চেম্বারের সাধারণ সদস্যরা শম্পার একক আধিপত্য ও ‘দাপুটে’ কার্যকলাপে অতিষ্ঠ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সদস্য জানান, শম্পা সংগঠনের গঠনতন্ত্রের তোয়াক্কা না করে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট তৈরি করেছেন। নারী উদ্যোক্তাদের উন্নয়নের জন্য আসা সরকারি সুযোগ-সুবিধা সাধারণ সদস্যরা পান না। এছাড়া লন্ডনে অনুষ্ঠিত একটি ফ্যাশন মেলায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রেও তিনি জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন বলে অভিযোগ আছে।

বিগত সরকারের মন্ত্রীদের সঙ্গে লুবানা শম্পার ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ছবি এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল। এ নিয়ে বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীরা ক্ষোভে ফুঁসছেন। ফেসবুকের বিভিন্ন পোস্টে তাকে ‘সুবিধাবাদী গিরগিটি’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে।

সিলেটের সচেতন নাগরিক ও ব্যবসায়ী মহলের প্রশ্ন—যারা দীর্ঘ ১৭ বছর জেল-জুলুম সহ্য করে রাজপথে লড়াই করল, নতুন বাংলাদেশে কি তাদের চেয়ে এই সুবিধাবাদীদের দাপটই বেশি থাকবে? স্বৈরাচারের দোসর হিসেবে পরিচিত এই নেত্রীর খুঁটির জোর কোথায়, তা নিয়ে এখন তোলপাড় চলছে পুরো সিলেটে।

১৫১ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন