কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে ছাত্রদলের নতুন কমিটি নিয়ে সংঘর্ষে আহত ৫
মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:৪১ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজে ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার দুপুরে কলেজের প্রশাসনিক ভবনের সামনে সংঘটিত এই সংঘর্ষে অন্তত ৫ জন নেতাকর্মী আহত হন। কমিটি ঘোষণার পরদিন সৃষ্ট এই অসন্তোষ ও হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনায় ক্যাম্পাসে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবার কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। এই কমিটিতে ওমর ফারুক মানিককে সভাপতি এবং ফাতিন ইশরাককে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে নবগঠিত এই কমিটি ঘোষণার পরপরই পদবঞ্চিত ও প্রত্যাশিত পদ না পাওয়া নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দেয়।
অসন্তুষ্ট অংশটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করার পর, সোমবার সকালে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী কলেজের প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। সদ্য ঘোষিত কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি ওমর ফারুক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তারেক রহমানের সমর্থকরা এই মিছিলের নেতৃত্ব দেন। একপর্যায়ে নতুন কমিটির সভাপতি ওমর ফারুক মানিকের সমর্থকদের সঙ্গে তাদের কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়, যা পরবর্তীতে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং সংঘর্ষে রূপ নেয়।
এই সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে সভাপতি ওমর ফারুক মানিক গ্রুপের কর্মী শাকিল ও প্রতাপ এবং পদবঞ্চিত পক্ষের তালহা জোবায়ের, রায়হান ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তারেক রহমান রয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
বিক্ষোভকারী পক্ষের নেতা ও নতুন কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি ওমর ফারুক অভিযোগ করে বলেন, তারা শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছিলেন। কিন্তু অযোগ্যদের নিয়ে গঠিত কমিটির লোকজন হঠাৎ করেই তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তিনি এই কমিটিকে অযোগ্যদের নেতৃত্ব আখ্যা দিয়ে তা বাতিলের দাবি জানান।
অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে নবনির্বাচিত সভাপতি ওমর ফারুক মানিক দাবি করেন, আজানের সময় বিক্ষোভকারীদের কর্মসূচি বন্ধ রাখার অনুরোধ করায় তারা ভুল বুঝে উল্টো তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এতে তার পক্ষের দুই কর্মী আহত হন।
কুমিল্লা মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি নাহিদুজ্জামান রানা জানান, দীর্ঘ দিন পর কমিটি হওয়ায় কিছুটা অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তারা ক্যাম্পাসে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছেন এবং বিষয়টি কেন্দ্রীয় সংসদকে অবহিত করেছেন। কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বর্তমানে ক্যাম্পাসের পরিবেশ শান্ত রয়েছে।
১২৩ বার পড়া হয়েছে