১৫ বছর পর অন্ধকার ঘর থেকে আলোয় ফিরলো সালেহা বেগম
শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬ ১০:২৩ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় দীর্ঘ ১৫ বছর অন্ধকার জরাজীর্ণ ঘরে বন্দি থাকা বৃদ্ধা সালেহা বেগমকে অবশেষে উদ্ধার করা হয়েছে। গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর কলাপাড়া উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রশাসনের এই মানবিক উদ্যোগে দীর্ঘ দেড় দশক পর আলোর মুখ দেখলেন তিনি।
শনিবার দুপুরে কলাপাড়া পৌর শহরের নাচনাপাড়া এলাকার একটি ঝুঁকিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ ঘর থেকে সালেহা বেগমকে উদ্ধার করেন তাঁর ছেলে জিয়াউর রহমান। এ সময় কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুজ্জামান এবং উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘদিন পর জরাজীর্ণ ওই ঘর থেকে বৃদ্ধাকে বের হয়ে আসতে দেখে স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে এক আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্বামী আবুল কালামের মৃত্যুর পর দীর্ঘ দেড় দশক ধরে ওই জরাজীর্ণ ঘরে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে জীবন কাটাচ্ছিলেন সালেহা বেগম। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি একবারের জন্যও ঘরের বাইরে পা রাখেননি এবং কারও সঙ্গে কোনো কথা বলেননি। তাঁর মেয়ে লাকী বেগম নিয়মিত খাবার দিলেও গোসল বা প্রাকৃতিক কাজ তিনি কোথায় ও কীভাবে সারতেন, তা কারও জানা ছিল না। অন্যদিকে, একমাত্র ছেলে জিয়াউর রহমান কিডনি রোগে আক্রান্ত হওয়ায় মায়ের সঠিক যত্ন নিতে পারেননি।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম জানান, সালেহা বেগম ও তাঁর অসুস্থ ছেলেকে চিকিৎসার জন্য কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁকে সরকারি সেবার আওতায় আনতে দ্রুত জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) কার্ড তৈরি করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, ওই অসহায় বৃদ্ধাকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়ার পাশাপাশি একটি নতুন ঘর তৈরি করে দেওয়ার প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
১২২ বার পড়া হয়েছে