নেপালে বন্যায় ১৬ মৃত্যু, নিখোঁজ ৩৮৪ পর্যটক, বাঙালি আছে কিনা জানা যায়নি
বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:১৫ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
নেপালের তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে পৌঁছেছে। এ ঘটনায় ১০৫ ভারতীয়সহ ৩৮৪ পর্যটক ও ভ্রমণকারী নিখোঁজ রয়েছেন। বুধবার সকালে ভোতেকোশি নদীতে হঠাৎ পানি বেড়ে রসুয়া জেলার তিমুরে ও সায়াফ্রুবেসি এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
বুধবার সকাল ৯টার দিকে ভোতেকোশি নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়। এতে রসুয়া জেলার তিমুরে ও সায়াফ্রুবেসি এলাকার বসতবাড়ি, সড়ক, সেতু, যানবাহন ও বিভিন্ন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কয়েকটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পও বন্যার পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
নেপাল পর্যটন বোর্ডের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বন্যার পর ৩৮৪ জন পর্যটক ও ভ্রমণকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। তাঁদের মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি এবং ৯৩ জন নেপালের নাগরিক। নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে ১০৫ জন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া ও নেদারল্যান্ডসের নাগরিকও রয়েছেন। তবে এর মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিক আছে কি না তা জানায়নি কর্তৃপক্ষ।
বন্যায় পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও নিখোঁজ হয়েছেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে রসুয়া এলাকায় নেপাল পুলিশের ২৬ সদস্য এবং সশস্ত্র পুলিশের সাত সদস্যের নিখোঁজ থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। নিখোঁজ পর্যটকদের অবস্থান নিশ্চিত করতে নেপাল পর্যটন বোর্ড, পর্যটন পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনী যৌথভাবে কাজ করছে।
নেপালের সেনাবাহিনী উদ্ধার অভিযানে হেলিকপ্টার ও উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করেছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও সেতু এবং প্রবল স্রোতের কারণে উদ্ধারকাজে নানা ধরনের বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে।
বন্যার কারণ নিয়ে প্রাথমিকভাবে বলা হচ্ছে, তিব্বত সীমান্তবর্তী উজান এলাকায় ভূমিধস বা বরফ-পাথরের ধসের কারণে নদীর প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছিল। পরে সৃষ্ট চাপের সঙ্গে পাহাড়ি ঢল যুক্ত হয়ে ভোতেকোশি নদীতে হঠাৎ বড় ধরনের পানির প্রবাহ তৈরি হয়। তবে দুর্যোগের সুনির্দিষ্ট কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র এখনও যাচাই করা হচ্ছে।
নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ দুর্গত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন। নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
১২৬ বার পড়া হয়েছে