গিনির রাজধানী কোনাক্রিতে বর্জ্যের স্তূপ ধসে নিহত ৩০
সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬ ৬:৪২ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গিনির রাজধানী কোনাক্রিতে ভারী বৃষ্টির মধ্যে আবর্জনার বিশাল স্তূপ ধসে অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ছয়জন গুরুতর আহত এবং আরও ১৬ জন সামান্য আহত হয়েছেন। রোববার রাতে গ্বেসিয়া কমিউনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
গিনির সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রোববার রাত প্রায় দুইটার দিকে গ্বেসিয়া কমিউনের একটি বর্জ্যাগারে আবর্জনার বিশাল স্তূপ ধসে পড়ে। ধসে পড়া বর্জ্যের নিচে কাছাকাছি থাকা তাঁবু ও ঝুপড়ি চাপা পড়ে। উদ্ধারকারীরা খননযন্ত্রসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ব্যবহার করে উদ্ধারকাজ চালান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ধসে পড়া আবর্জনার স্তূপটি এত বড় ছিল যে এর নিচে একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনসহ আশপাশের আরও অনেক বসতবাড়ি চাপা পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।
ঘটনার পর সেখানে গিয়ে ক্ষয়ক্ষতি পরিদর্শন করেন গিনির প্রধানমন্ত্রী আমাদু ওউরি বাহ। প্রত্যক্ষদর্শী সির দিয়ালো বলেন, এই ঘটনায় তিনি তাঁর পাঁচ সন্তানকে হারিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি আমার সব সন্তানকে হারিয়েছি। এখন আমি যা করতে পারি, তা হলো খোদার ওপর বিশ্বাস রাখা।’
বর্জ্যাগারটি নিয়ে আগে থেকেই উদ্বেগ ছিল। গত বৃহস্পতিবার গিনির স্থানীয় সরকারমন্ত্রী জেনাব তুরে জানিয়েছিলেন, বর্ষাকালে এটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় সরকার বর্জ্যাগারটি বন্ধ করে দিচ্ছে। কোনাক্রির বাইরে আবর্জনা সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও তিনি জানিয়েছিলেন।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিম আফ্রিকার অনুন্নত ও ঘনবসতিপূর্ণ শহরগুলোতে বর্ষাকালে ভূমিধস ও প্রাণঘাতী বন্যার ঘটনা প্রায়ই ঘটে। ভারী বৃষ্টিপাত এসব এলাকায় দুর্বল অবকাঠামো ও অপরিকল্পিত বসতির কারণে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করে।
গিনি প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ হলেও দেশটির অবকাঠামো দুর্বল এবং দারিদ্র্যের হারও উল্লেখযোগ্য। দেশটিতে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বক্সাইটের মজুদ রয়েছে। এ ছাড়া সিমান্দু অঞ্চলে বিপুল পরিমাণ লৌহ আকরিকের মজুদ রয়েছে। সেখানে বড় একটি খনি প্রকল্পের কাজও শুরু হয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গিনির জনসংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৫১ লাখ। দেশটির বিপুলসংখ্যক মানুষ এখনও সীমিত আয়ের মধ্যে জীবনযাপন করেন।
১০৭ বার পড়া হয়েছে