সর্বশেষ

ধর্ম

গাউসুল আজম খানকা শরীফে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (স:) উপলক্ষে ব্যাপক আয়োজন

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬ ৯:৩৬ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য, রাসুলপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধের বার্তা ছড়িয়ে দিতে দক্ষিণবঙ্গের দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের অন্যতম কেন্দ্র গাউসুল আজম খানকা শরীফে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে শুরু হয়েছে ব্যাপক আয়োজন। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর পবিত্র জন্ম, জীবনাদর্শ, চরিত্র ও মানবকল্যাণের শিক্ষা স্মরণের পাশাপাশি এ আয়োজনকে আত্মশুদ্ধি, নৈতিক পুনর্জাগরণ এবং সামাজিক সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

ঐতিহাসিকভাবে বাংলার খানকাহগুলো শুধু জিকির-আজকার বা ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার স্থান ছিল না। বরং ইলম, আখলাক, আত্মশুদ্ধি, মানবসেবা ও সামাজিক সংহতি গড়ে তোলার কেন্দ্র হিসেবেও ভূমিকা রেখেছে। সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় গাউসুল আজম খানকা শরীফও দীর্ঘদিন ধরে তাসাউফ, শরিয়তের জ্ঞান ও মানবিক মূল্যবোধের সমন্বিত চর্চার সঙ্গে যুক্ত। প্রচলিত ঐতিহাসিক বর্ণনা অনুযায়ী, খানকা শরীফের প্রাতিষ্ঠানিক বিকাশ ১৮ শতকের শেষভাগে দৃশ্যমান হলেও এর আধ্যাত্মিক উত্তরাধিকারের শিকড় আরও পুরোনো।
খানকা শরীফের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের সঙ্গে বিশেষভাবে যুক্ত রয়েছেন হযরত শাহসুফী খাজা ফয়েজ উদ্দিন (রহ.) এবং তাঁর আধ্যাত্মিক উত্তরসূরি হযরত খাজা নাছের আলী (রহ.)। তাঁদের জীবন ও শিক্ষায় আত্মশুদ্ধি, বিনয়, আল্লাহর প্রতি গভীর প্রেম, মানুষের প্রতি সহমর্মিতা এবং নৈতিক চরিত্র গঠনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে ঈদে মিলাদুন্নবীর আয়োজনও এখানে কেবল উৎসবকেন্দ্রিক নয়। বরং রাসুলুল্লাহ (সা.) এর আদর্শকে জীবনে ধারণ করার আহ্বানের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিতে, ঈদে মিলাদুন্নবীর প্রকৃত তাৎপর্য অনুধাবনের ক্ষেত্রে মহানবী (সা.) এর সীরাত ও সুন্নাহর নৈতিক শিক্ষা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর জীবন ছিল সত্যবাদিতা, আমানতদারি, ক্ষমাশীলতা, ন্যায়বিচার, প্রতিবেশীর অধিকার, অসহায়ের প্রতি সহমর্মিতা এবং মানুষের মর্যাদা রক্ষার বাস্তব দৃষ্টান্ত। তাই মিলাদুন্নবী উপলক্ষে আয়োজিত ধর্মীয় কর্মসূচি যদি এসব মূল্যবোধকে ব্যক্তি ও সামাজিক জীবনে বাস্তবায়নের প্রেরণা সৃষ্টি করে। তবে এর তাৎপর্য বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।

গাউসুল আজম খানকা শরীফের বর্তমান খাদেম ও আধ্যাত্মিক উত্তরসূরি হযরত মাওলানা আবুল খায়ের মোহাম্মদ ইসমাইল (দা.বা.) এর তত্ত্বাবধানে খানকা শরীফের ধর্মীয়, আধ্যাত্মিক ও সামাজিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।

তিনি তাসাউফী ঐতিহ্য, ইসলামী জ্ঞান ও দাওয়াতি প্রজ্ঞার সমন্বয়ের মাধ্যমে আত্মশুদ্ধি ও নৈতিক জীবন গঠনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে থাকেন।
আগামীকাল ১২ ই রবিউল আউয়াল মোতাবেক ২৬ অগাস্ট ২০২৬ ইংরেজি আয়োজনকে ঘিরে ধর্মপ্রাণ মানুষ ও খানকা শরীফের অনুসারীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, মিলাদ, সীরাত আলোচনা, নসিহত, জিকির-আজকার ও বিশেষ দোয়ার মধ্য দিয়ে মহানবী (সা.) এর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের পাশাপাশি তাঁর আদর্শ অনুসরণের অঙ্গীকারই হবে এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।

এ ব্যাপারে খানকা শরীফের এবং এই খানদানের নির্ভরযোগ্য উত্তরসূরী দৈনিক কালের কথা পত্রিকার সম্পাদক ও গবেষ খাজা মাসুম বিল্লাহ কাওছারী বলেন- সমকালীন বাস্তবতায় এ আয়োজনের সামাজিক গুরুত্বও রয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর জীবন, পারিবারিক দূরত্ব, সামাজিক বিভাজন, অসহিষ্ণুতা ও নৈতিক অবক্ষয়ের বাস্তবতায় মানুষের অন্তর্জগতের উন্নয়ন এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক প্রয়োজন। তাসাউফের আত্মশুদ্ধির শিক্ষা এবং রাসুলুল্লাহ (সা.) এর মানবিক আদর্শ সেই সংকট মোকাবিলায় নৈতিক ভিত্তি তৈরি করতে পারে।

স্থানীয় প্রবীণ ও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, গাউসুল আজম খানকা শরীফে ঈদে মিলাদুন্নবীর এবারের আয়োজন তাই শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয় বরং দক্ষিণবঙ্গের দীর্ঘ আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যকে ধারণ করে নতুন প্রজন্মের কাছে রাসুলপ্রেম, নৈতিকতা, আত্মশুদ্ধি, মানবিকতা ও সামাজিক সম্প্রীতির বার্তা পৌঁছে দেওয়ার একটি তাৎপর্যপূর্ণ উদ্যোগ।

১১৯ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
ধর্ম নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন