সর্বশেষ

আন্তর্জাতিক

ক্ষমতায় যে দলই আসুক, সংস্কার বাস্তবায়নে অনিশ্চয়তা নেই: ড. ইউনূস

মো. রহমত আলী রিজভী
মো. রহমত আলী রিজভী

শনিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ৩:৫০ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
বাংলাদেশ আর স্বৈরশাসনের পথে ফিরবে না বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, দলমত নির্বিশেষে জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে শুরু হওয়া সংস্কার কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং যে দলই ক্ষমতায় আসুক, সংস্কার বাস্তবায়নে অনিশ্চয়তা থাকবে না।

বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও রাষ্ট্র সংস্কারের ধারাবাহিকতা আর কোনোভাবেই থেমে যাবে না বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, ভবিষ্যতে যে রাজনৈতিক দলই ক্ষমতায় আসুক, জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে শুরু হওয়া সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং দেশ আর স্বৈরশাসনের দিকে ফিরে যাবে না।

শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. ইউনূস বলেন, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের আকাঙ্ক্ষা থেকেই ১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে। তবে স্বাধীনতার পরও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার পথ বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এসব অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য বিভিন্ন সময়ে দেশের মানুষকে ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে।

তিনি বলেন, চলতি বছর ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’-এর প্রথম বার্ষিকী পালিত হয়েছে। ওই আন্দোলনে তরুণ প্রজন্ম স্বৈরাচারকে পরাজিত করে বৈষম্যহীন ও ন্যায়বিচারভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। জনগণ এখন সেই পরিবর্তনের দায়িত্ব সরকারের হাতে তুলে দিয়েছে।

রাষ্ট্র কাঠামো পুনর্গঠনের নানা চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে দ্রুত সংস্কার করা সম্ভব হলেও সরকার সে পথে না গিয়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও দীর্ঘস্থায়ী প্রক্রিয়া বেছে নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে বিচার বিভাগ, শাসনব্যবস্থা, নির্বাচন, জনপ্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি দমন ও নারী অধিকারসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ১১টি স্বাধীন সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়েছে।

তিনি জানান, সংস্কার কমিশনগুলোর সুপারিশ বাস্তবায়নে রাজনৈতিক ঐকমত্য গড়ে তুলতে ৩০টির বেশি রাজনৈতিক দল ও জোটকে নিয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করা হয়। এ প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় গত জুলাই মাসে রাজনৈতিক দলগুলো সম্মিলিতভাবে ‘জুলাই ঘোষণা’র মাধ্যমে সংস্কার বাস্তবায়নে সময়সীমাবদ্ধ অঙ্গীকার করেছে।

প্রধান উপদেষ্টার ভাষ্য, এই রাজনৈতিক অঙ্গীকারের ফলে আগামী নির্বাচনে যে দলই জনগণের রায় নিয়ে সরকার গঠন করুক না কেন, সংস্কার বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তার কোনো সুযোগ থাকবে না। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ভবিষ্যতে আর হুমকির মুখে পড়বে না বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ড. ইউনূস বলেন, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নাগরিকবান্ধব সংস্কার কার্যক্রমও অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরও বলেন, জনগণের আত্মত্যাগের মাধ্যমে যে ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, সেটি পুনর্গঠনের প্রক্রিয়াকে আর কোনো শক্তি বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না। দল-মত নির্বিশেষে জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে সেই সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।

১১৭ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
আন্তর্জাতিক নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০