রাণীনগরে সরকারি গাছ কাটার ১৮ দিন পরও নীরব প্রশাসন, জনমনে ক্ষোভ
বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬ ৭:১৬ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
নওগাঁর রাণীনগরে খাস জমির সরকারি গাছ কাটা নিয়ে প্রশাসনের নীরব ভূমিকা নিয়ে নানা মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। গাছ কাটার দীর্ঘ দিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার কাশিমপুর ইউনিয়নের কুজাইল এলাকায় সরকারি খাস জমির মূল্যবান গাছ কেটে নেওয়ার ঘটনায় প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে। গাছ কাটার ১৮ দিন পেরিয়ে গেলেও জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ বা আইনি নোটিশ না পাঠানোয় ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা।
সরেজমিনে জানা যায়, কুজাইল গ্রামের হালদারপাড়া এলাকায় প্রায় ৬ শতাংশ খাস জমি সরকারের কাছ থেকে লিজ নিয়ে ভোগদখল করে আসছিলেন কামরুল ইসলাম নিলু নামের এক ব্যক্তি। চলতি মাসের ৬ আগস্ট প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই ওই জমির পুকুর পাড় থেকে লক্ষাধিক টাকা মূল্যের ৫টি মেহগনি গাছ কেটে ফেলেন তিনি। বিষয়টি জানাজানি হলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাবিলা ইয়াসমিন গাছগুলো জব্দ করে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে নিয়ে যান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গাছ জব্দ করা হলেও অভিযুক্ত নিলুর বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। উল্টো এই সুযোগে একটি প্রভাবশালী চক্রের সহায়তায় নিলু নিজে নির্দোষ দাবি করে থানায় পাল্টা অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত কামরুল ইসলাম নিলু বলেন, দীর্ঘদিন ধরে খাস জমিটি লিজ নিয়ে তাঁরা ভোগদখল করছেন এবং গাছগুলো তাঁরাই রোপণ করেছিলেন। তবে প্রশাসনের কোনো লিখিত নোটিশ তিনি পাননি বলে স্বীকার করেন। অন্যদিকে, রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাকারিয়া মন্ডল জানান, গাছ কাটার বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ থানায় আসেনি, তবে জমি সংক্রান্ত বিষয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার একটি লিখিত অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাবিলা ইয়াসমিন এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাকিবুল হাসান জানান, কাজের ব্যস্ততার কারণে কিছুটা বিলম্ব হলেও দ্রুত সময়ের মধ্যে গাছ কাটার সাথে জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
১০৭ বার পড়া হয়েছে