রিয়ালের ব্র্যান্ড মূল্য ২৪০ কোটি ইউরো, সেরা তিনে আর্সেনাল
মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬ ৬:৪৮ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
মাঠের সাফল্য সব সময় ব্যবসায়িক সাফল্যের নিশ্চয়তা দেয় না। তার বড় উদাহরণ রিয়াল মাদ্রিদ। টানা দুই মৌসুম ঘরোয়া শিরোপাহীন থেকেও স্প্যানিশ ক্লাবটির ব্র্যান্ড মূল্য এক বছরে বেড়েছে ২৫ শতাংশ। আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড মূল্যায়ন সংস্থা ব্র্যান্ড ফাইন্যান্সের ২০২৬ সালের প্রতিবেদনে রিয়াল মাদ্রিদ টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান ফুটবল ক্লাব ব্র্যান্ড হয়েছে। ক্লাবটির ব্র্যান্ড মূল্য এখন ২৪০ কোটি ইউরো।
ব্র্যান্ড ফাইন্যান্সের হিসাবে, বিশ্বের শীর্ষ ৫০ ফুটবল ক্লাবের মোট ব্র্যান্ড মূল্য ২ হাজার ৩৯০ কোটি ইউরোতে উঠেছে। একই সময়ে এসব ক্লাবের মোট এন্টারপ্রাইজ ভ্যালু দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৯৭০ কোটি ইউরোতে। ক্রীড়া ব্র্যান্ডের ইতিহাসে এক বছরে এটাই সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি।
ব্র্যান্ড মূল্য বলতে মূলত একটি ক্লাবের নাম ও পরিচিতি ভবিষ্যতে কতটা আয় করার সক্ষমতা রাখে, তার আর্থিক মূল্যায়নকে বোঝানো হয়। অন্যদিকে এন্টারপ্রাইজ ভ্যালু হলো পুরো ক্লাবের আনুমানিক আর্থিক মূল্য।
এই হিসাবেও রিয়াল মাদ্রিদ সবার ওপরে। ক্লাবটির ব্র্যান্ড মূল্য ২৪০ কোটি ইউরো, যা ডলারে প্রায় ২৭৬ কোটি ৬০ লাখ। লা লিগায় দ্বিতীয় হওয়া কিংবা টানা দুই মৌসুম ঘরোয়া শিরোপা না জেতা তাদের বাণিজ্যিক অবস্থানে বড় কোনো ধাক্কা দিতে পারেনি।
রিয়ালের ব্র্যান্ড মূল্য বাড়ার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর সংস্কার। ২০২৫-২৬ মৌসুমে সংস্কার শেষে পূর্ণ সক্ষমতায় স্টেডিয়ামটি ব্যবহারের প্রথম বছরে টিকিট বিক্রি, আতিথেয়তা, জাদুঘর ও স্টেডিয়াম ভ্রমণ থেকে ক্লাবের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সব মিলিয়ে রিয়ালের রাজস্ব রেকর্ড ১২০ কোটি ইউরোতে পৌঁছেছে।
বিশ্বজুড়ে রিয়ালের বিপুল সমর্থকগোষ্ঠী, আন্তর্জাতিক স্পনসরশিপ এবং কিলিয়ান এমবাপ্পে, জুড বেলিংহাম ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের মতো তারকাদের উপস্থিতিও ক্লাবটির বাণিজ্যিক শক্তি বাড়িয়েছে।
দ্বিতীয় স্থানে আছে বার্সেলোনা। তাদের ব্র্যান্ড মূল্য এক বছরে ১৫ শতাংশ বেড়ে ২০০ কোটি ইউরো হয়েছে। হান্সি ফ্লিকের অধীনে টানা দ্বিতীয়বার লা লিগা ও স্প্যানিশ সুপার কাপ জয়ের পাশাপাশি ক্যাম্প ন্যুতে ফেরাও বার্সেলোনার আয়ে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। দুই বছরের বেশি সময় পর নিজেদের মাঠে ফেরায় টিকিট ও ম্যাচ-ডে আয়ের পুরোনো ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার সুযোগ পেয়েছে ক্লাবটি। স্পনসরশিপ ও অনলাইন পণ্য বিক্রিতেও বার্সেলোনার আয় বেড়েছে।
তবে এবারের তালিকার সবচেয়ে বড় চমক আর্সেনাল। পাঁচ ধাপ এগিয়ে প্রথমবারের মতো শীর্ষ তিনে জায়গা করে নিয়েছে ইংলিশ ক্লাবটি। এক বছরে তাদের ব্র্যান্ড মূল্য বেড়েছে ২৮ শতাংশ, দাঁড়িয়েছে ১৫০ কোটি ইউরোতে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা এবং চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে ওঠার সাফল্য আর্সেনালের বাণিজ্যিক অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে।
চতুর্থ স্থানে আছে বায়ার্ন মিউনিখ। জার্মান ক্লাবটির ব্র্যান্ড মূল্য ১৭৪ কোটি ৮০ লাখ ডলার। মাঠের সাফল্যের পাশাপাশি সম্প্রচার, বাণিজ্যিক ও ম্যাচ-ডে আয়ের ধারাবাহিকতা তাদের এগিয়ে দিয়েছে। পঞ্চম স্থানে থাকা পিএসজির ব্র্যান্ড মূল্য ১৭৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার।
অন্যদিকে ব্র্যান্ড মূল্য বাড়লেও তালিকায় পিছিয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি, লিভারপুল ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। সিটি তিন থেকে ছয়ে, লিভারপুল চার থেকে সাতে এবং ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড সাত থেকে আট নম্বরে নেমেছে। অর্থাৎ তাদের ব্র্যান্ড মূল্য কমেনি, বরং অন্য ক্লাবগুলো আরও দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় র্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়েছে।
চেলসি ১১০ কোটি ১০ লাখ ডলার ব্র্যান্ড মূল্য নিয়ে নবম স্থান ধরে রেখেছে। আর দীর্ঘ প্রায় এক দশক পর শীর্ষ ১০-এ ফিরেছে বরুসিয়া ডর্টমুন্ড। জার্মান ক্লাবটির ব্র্যান্ড মূল্য ৭৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার। সম্প্রচারস্বত্ব, টিকিট বিক্রি ও পণ্য বিক্রির আয় তাদের আবার ইউরোপের শীর্ষ বাণিজ্যিক ক্লাবগুলোর কাতারে ফিরিয়েছে।
২০২৬ সালের শীর্ষ ১০ মূল্যবান ফুটবল ক্লাব ব্র্যান্ড
১. রিয়াল মাদ্রিদ — ২৭৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার
২. বার্সেলোনা — ২২৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার
৩. আর্সেনাল — ১৭৭ কোটি ২০ লাখ ডলার
৪. বায়ার্ন মিউনিখ — ১৭৪ কোটি ৮০ লাখ ডলার
৫. পিএসজি — ১৭৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার
৬. ম্যানচেস্টার সিটি — ১৭০ কোটি ৯০ লাখ ডলার
৭. লিভারপুল — ১৬৯ কোটি ৫০ লাখ ডলার
৮. ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড — ১৬৫ কোটি ৯০ লাখ ডলার
৯. চেলসি — ১১০ কোটি ১০ লাখ ডলার
১০. বরুসিয়া ডর্টমুন্ড — ৭৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার।
১৪৩ বার পড়া হয়েছে