কুষ্টিয়ায় কোটি টাকার ঋণের চাপ সইতে না পেরে ব্যবসায়ীর আত্মহত্যা
বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬ ১:০৫ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে কয়েক কোটি টাকার ঋণের চাপ সইতে না পেরে হারুন অর রশিদ খালেক (৩৮) নামের এক কাঁচামাল ব্যবসায়ী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। মৃত্যুর আগে নিজের একমাত্র সন্তানকে দেখে রাখার অনুরোধ জানিয়ে ছোট ভাইকে ফোন করেছিলেন তিনি। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার পান্টি ইউনিয়নের বিরিকয়া গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। নিহত হারুন অর রশিদ খালেক ওই গ্রামের সদর উদ্দিনের ছেলে। তিনি এলাকায় একজন বড় ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ধান, পাট ও পেঁয়াজসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্যের বড় ধরনের ব্যবসা পরিচালনা করতেন তিনি।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বিগত কয়েক বছর ধরে ব্যবসায় একের পর এক লোকসান গুনছিলেন খালেক। চলতি বছর তার প্রায় ৫০ লাখ টাকার কেনা পেঁয়াজ পচে নষ্ট হয়ে যায়। এতে চরম আর্থিক সংকটে পড়েন তিনি। পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যাংক, এনজিও ও আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা ঋণ ও ধারদেনা করেন। কিন্তু ক্রমশ দেনার চাপ বাড়তে থাকায় তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন।
আত্মহত্যার পূর্বে গভীর রাতে খালেক তার ছোট ভাই আব্দুল মালেককে ফোন করে বলেন, ‘আমার ছোয়ালডা থাকলো, তুই দেখিস’। ভাইয়ের এ ধরনের রহস্যময় কথায় মালেক তার অবস্থান জানতে চাইলে খালেক একটি বাগানের ইঙ্গিত দিয়ে ফোন কেটে দেন। স্বজনরা দ্রুত সেখানে গিয়ে একটি আমগাছের ডালে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।
নিহতের বাবা ও স্ত্রীর দাবি, ঋণের বিশাল বোঝা সইতে না পেরেই তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন জানিয়েছেন, খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। প্রাথমিকভাবে ঋণের চাপের কারণেই এই আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
১২৩ বার পড়া হয়েছে