সর্বশেষ

সারাদেশ

শরীয়তপুরে সাংবাদিকদের মারধর ও যুবদল নেতার হুমকি: "তোমরা লেখবা, আমরা পিটাবো"

মেহেদী হাসান, শরীয়তপুর
মেহেদী হাসান, শরীয়তপুর

বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬ ৩:০৬ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
শরীয়তপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে তিন সংবাদকর্মীর ওপর অতর্কিত হামলা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জেলার সাংবাদিক সমাজ। অন্যদিকে অভিযুক্ত যুবদল নেতার ‘তোমরা লেখবা, আমরা পিটাবো’ এমন হুমকি ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে শরীয়তপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। আহত সাংবাদিকরা হলেন—নিউজ ২৪ টেলিভিশন, জাগো নিউজ ও খবরের কাগজের প্রতিনিধি বিধান মজুমদার অনি; দ্য ডেইলি স্টারের শরীয়তপুর ও মাদারীপুর প্রতিনিধি জাহিদ হাসান রনি এবং দৈনিক এদিনের প্রতিনিধি বরকত উল্লাহ।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি জেলা প্রশাসন কোনো লিখিত নোটিশ ছাড়াই জেলা প্রেস ক্লাবের সীমানা প্রাচীর ভেঙে ফেলে। এর প্রতিবাদে প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। এই ঘটনার জেরে সাংবাদিকদের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে জেলা যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে পাল্টা বিক্ষোভ সমাবেশ ডাকেন।

উক্ত সমাবেশ চলাকালীন পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গেলে প্রথমে হামলার শিকার হন বিধান মজুমদার অনি। তাকে স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আমান মাদবরের নেতৃত্বে মারধর করা হয়। এর কিছুক্ষণ পর সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে জাহিদ হাসান রনি এবং বরকত উল্লাহর ওপর হামলা চালান জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আরিফুজ্জামান মোল্লা ও তার অনুসারীরা। এ সময় রনির মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে সব ভিডিও ফুটেজ মুছে ফেলা হয়।

গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় বাসিন্দারা সাংবাদিকদের উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। এ ঘটনার পর শরীয়তপুর জেলা প্রেস ক্লাবসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম সংগঠন তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করেছে। ভুক্তভোগী সাংবাদিক বরকত উল্লাহ জানান, তাকে কিল, ঘুষি ও লাথি মেরে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

অভিযুক্ত যুবদল নেতা আরিফুজ্জামান মোল্লা মুঠোফোনে ক্ষোভ প্রকাশ করে উদ্ধত আচরণ করেন। তিনি সরাসরি হুমকি দিয়ে বলেন, আরও অনেকেই তালিকায় আছে এবং সাংবাদিকদের মারধর করার হুমকি দেন। অন্যদিকে, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আমিনুর রহমান আমান দাবি করেছেন, তারা ঘটনাস্থলে থাকা ব্যক্তি যে সাংবাদিক ছিলেন তা জানতেন না।

শরীয়তপুর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি শাহ মোহাম্মদ আব্দুস সালাম এই বিষয়ে বলেন, সাংবাদিকরা জেলা প্রশাসকের প্রতি অন্যায় আচরণ করেছেন এবং তারা প্রতিবাদের নামে এমন আচরণ করতে পারেন না। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) তানভীর হোসেন জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

১২৪ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন