মুরগি বিক্রি করে সাইকেল কেনার স্বপ্ন: সিরাজগঞ্জের ক্ষুদে তামিমের আবেগঘন গল্প
বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬ ১:১৩ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
সহপাঠীদের মতো নিজের একটি বাইসাইকেল পাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা সিরাজগঞ্জের কামারখন্দের ১১ বছর বয়সী মেধাবী শিক্ষার্থী তামিম হোসেনের। দরিদ্র পোশাক শ্রমিক বাবার পক্ষে সাইকেল কিনে দেওয়া সম্ভব না হওয়ায় নিজে পরম যত্নে দুটি মুরগি বড় করে তা বাজারে বিক্রি করেছে সে। মুরগি বিক্রির ১ হাজার টাকা মায়ের হাতে তুলে দিয়ে নিজের স্বপ্ন পূরণের প্রহর গুনছে এই অবুঝ শিশু।
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার চরকুড়া গ্রামের বাসিন্দা ঢাকায় কর্মরত দরিদ্র গার্মেন্টস শ্রমিক শামসুল আলমের ছেলে তামিম হোসেন (১১)। সে স্থানীয় চরকুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। পড়াশোনায় অত্যন্ত মেধাবী হলেও সহপাঠীদের মতো একটি বাইসাইকেল না থাকায় প্রতিনিয়ত তীব্র মনকষ্টে ভুগছিল সে। বন্ধুদের আনন্দের সাথে সাইকেল চালাতে দেখে নিজের অভাবের কষ্টটা তাকে বারবার তাড়িয়ে বেড়াত।
তামিমের বাবা শামসুল আলম ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় মাত্র ১৬ হাজার টাকা মাসিক বেতনে চাকরি করেন। বর্তমান বাজারে এই সামান্য আয়ে কোনো রকমে সংসার চললেও ছেলের বাইসাইকেল কেনার শখ পূরণ করা তাঁর পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাবার এই আর্থিক সংকটের কথা বুঝতে পেরে ক্ষুদে শিক্ষার্থী তামিম নিজেই একটি ভিন্ন উদ্যোগ নেয়।
কয়েক মাস আগে নিজের জমানো মাত্র কয়েকশো টাকা দিয়ে সে দুটি মুরগির বাচ্চা কিনে বাড়ি নিয়ে আসে। অত্যন্ত যত্ন ও স্নেহে মুরগি দুটিকে লালন-পালন করে বড় করে তোলে সে। গত মঙ্গলবার বিকেলে কামারখন্দ হাটে সেই মুরগি দুটি বিক্রি করার জন্য নিয়ে আসে তামিম। হাটে আসা ক্রেতাদের প্রশ্নের জবাবে তামিম জানায়, মুরগি দুটি বিক্রি করে সে ১ হাজার টাকা পেয়েছে এবং এই টাকা সে তার মায়ের কাছে জমা রাখবে সাইকেল কেনার জন্য।
তামিম জানায়, "বাবা এবার সাইকেল কিনে দেওয়ার কথা বলেছেন, তবে সংসারের অভাবের কারণে পারবেন কিনা জানি না। তাই আমি নিজের জমানো ১ হাজার টাকা মায়ের কাছে দেব। বাকি টাকা জোগাড় করার জন্য প্রয়োজনে অন্য কোনো উপায়ে আবার চেষ্টা করব।"
হাটে আসা স্থানীয় মুরগি বিক্রেতা আব্দুল আউয়াল তামিমের সততা ও নিষ্ঠার প্রশংসা করে বলেন, তামিম অত্যন্ত ভদ্র ও শান্ত স্বভাবের একটি ছেলে। এত অল্প বয়সে তার এমন আত্মনির্ভরশীল হওয়ার চেষ্টা সত্যি প্রশংসনীয়। সমাজে কোনো সহৃদয় ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি এই অবুঝ শিশুর পাশে দাঁড়িয়ে তার স্বপ্ন পূরণে সাহায্য করতেন, তবে শিশুটির মুখে হাসি ফুটত।
১১৭ বার পড়া হয়েছে