সর্বশেষ

খেলা

ডারউইনের জয়, এবার ম্যাকাইয়ে সিরিজ জয়ের পালা বাংলাদেশের 

স্পোর্টস রিপোর্টার
স্পোর্টস রিপোর্টার

শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬ ৫:১৮ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর পর বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয় নিয়ে অস্ট্রেলিয়ান সাংবাদিকদের আগ্রহের কমতি নেই। ঢাকার রাস্তায় উদযাপন হয়েছে কি না, পত্রিকার শিরোনাম কত বড় হয়েছে—সবই জানতে চাইছেন তাঁরা। সেই আগ্রহের সঙ্গে মিশে আছে উদ্বেগও। এবার ম্যাকাইয়ে সিরিজ নির্ধারণী দ্বিতীয় টেস্টে বাংলাদেশকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার শঙ্কার কথাও শোনা যাচ্ছে। আর সেই শঙ্কাকে কাজে লাগিয়ে আরেকটি ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয়টি শুধু একটি ম্যাচের ফল নয়, দেশের ক্রিকেট ইতিহাসের বড় এক অর্জন। টেস্ট অভিষেকের ২৬ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথমবারের মতো টেস্ট জয়ের পর বাংলাদেশ দল এখন সিরিজ জয়ের স্বপ্ন দেখছে। ডারউইনে পাওয়া ৯ উইকেটের জয়ের পর সেই আত্মবিশ্বাসই ছড়িয়ে পড়েছে পুরো দলজুড়ে।

ম্যাকাইয়ে দ্বিতীয় টেস্ট কাভার করতে আসা অস্ট্রেলিয়ান সাংবাদিকদের অনেকের কাছেই বাংলাদেশের উদযাপন ছিল কৌতূহলের বিষয়। কেউ জানতে চেয়েছেন ঢাকার রাস্তায় মিছিল হয়েছিল কি না, কেউ জানতে চেয়েছেন পত্রিকায় কত বড় শিরোনাম হয়েছে। মোটর শোভাযাত্রা হয়েছিল কি না, সেটিও ছিল তাঁদের প্রশ্নের তালিকায়। এতে বোঝা যায়, অস্ট্রেলিয়াকে টেস্টে হারানো বাংলাদেশের জন্য কত বড় অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

শুধু সাংবাদিকদের মধ্যেই নয়, অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট-সংশ্লিষ্টদের মধ্যেও দ্বিতীয় টেস্ট নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ রয়েছে। সম্প্রচারকাজে যুক্ত এক অস্ট্রেলিয়ান তো সরাসরিই বলেছেন, বাংলাদেশ দ্বিতীয় টেস্টও জিতে যেতে পারে। বাংলাদেশের পেসার হাসান মাহমুদের বিশ্বাসও কম নয়। তাঁর মতে, পেস ও বাউন্সি উইকেটেও বাংলাদেশের বোলিং ইউনিট ভালো করতে পারবে।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের সাফল্যের ইতিহাসও কম চমকপ্রদ নয়। ২০০৫ সালে কার্ডিফে মোহাম্মদ আশরাফুলের সেঞ্চুরিতে ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। ২০১৭ সালে দেশের মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পেয়েছিল প্রথম টেস্ট জয়। এরপর ২০২১ সালে ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের কীর্তিও গড়ে বাংলাদেশ। ডারউইনের জয় সেই তালিকায় যোগ করেছে আরও বড় এক অর্জন।

তবে দ্বিতীয় টেস্টে বাস্তবতা যে ভিন্ন, সেটি জানেন বাংলাদেশের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স। ম্যাকাইয়ে ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, এটি নতুন ম্যাচ এবং কন্ডিশনও ভিন্ন। অস্ট্রেলিয়া ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য কঠিনভাবে চেষ্টা করবে। নিজেদের প্রক্রিয়া মেনে খেলেই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ উপহার দিতে চান তাঁরা।

অস্ট্রেলিয়াও অবশ্য সিরিজ বাঁচাতে প্রস্তুত। ম্যাকাইয়ে পৌঁছানোর পরদিনই প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা অনুশীলন করেছে স্বাগতিক দল। সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চলা সেই অনুশীলনে ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই ছিল বাড়তি মনোযোগ। বিশেষ করে বোলারদের দীর্ঘ ব্যাটিং সেশন নজর কেড়েছে। ডারউইন টেস্টের প্রথম ইনিংসে হাসান মাহমুদ ও তাসকিন আহমেদ ব্যাট হাতে কার্যকর ভূমিকা রাখার পর অস্ট্রেলিয়াও টেলএন্ডারদের ব্যাটিং নিয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে।

ডারউইনে বাংলাদেশের জয়ের অন্যতম নায়ক ছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। প্রথম ইনিংসে ৬৫ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলার পাশাপাশি বল হাতে পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। তানজিদ হাসান তামিমের সেঞ্চুরি এবং নাজমুল হোসেন শান্ত ও মিরাজের অর্ধশতকে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৪২৬ রান করে। পরে অস্ট্রেলিয়াকে দ্বিতীয় ইনিংসে ২৮৪ রানে আটকে দিয়ে ৫৬ রানের লক্ষ্য পায় বাংলাদেশ। সেটি সহজেই পেরিয়ে গিয়ে ৯ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে শান্তর দল।

ম্যাকাইয়ের কন্ডিশন নিয়ে বাংলাদেশের প্রস্তুতিতেও ছিল বিশেষ নজর। প্রথম অনুশীলনে বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলাম দীর্ঘ সময় বোলিং করেন। হাসান মাহমুদ, তাসকিন আহমেদ, খালেদ আহমেদ ও এবাদত হোসেনও বোলিং স্পেল করেন। কন্ডিশন বিবেচনায় দ্বিতীয় টেস্টে চার পেসার খেলানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে একাদশ নিয়ে কোনো আগাম ঘোষণা দিতে রাজি নন কোচ সিমন্স।

ম্যাকাইয়ের রেড ব্যারিয়ার অ্যারেনার হ্যারাপ পার্কের উইকেটেও পেসারদের জন্য সহায়তা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রচণ্ড বাতাস, তুলনামূলক ঠান্ডা আবহাওয়া এবং পেস ও বাউন্সের কথা মাথায় রেখে বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্ট পরিকল্পনা সাজাচ্ছে। উইকেটটি ব্রিসবেনের গ্যাবার পিচের আদলে তৈরি এবং কিউরেটরও গ্যাবা থেকে এসেছেন বলে জানা গেছে।

কন্ডিশন নিয়ে সতর্ক থাকলেও সিমন্স মনে করেন, ডারউইনের মতো কঠিন উইকেটে খেলতে পারলে ম্যাকাইয়েও ভালো করা সম্ভব। অনুশীলনে সাদমান ইসলাম শরিফুলকে পরামর্শ দিয়েছেন, স্বাভাবিক বাউন্সের কারণে অতিরিক্ত বাউন্সের চেষ্টা না করে বলের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে। মুশফিকুর রহিমও হাসান মাহমুদকে বাতাসের কথা মাথায় রেখে নির্দিষ্ট চ্যানেলে বোলিংয়ের পরামর্শ দিয়েছেন।

দ্বিতীয় টেস্টে বাংলাদেশের একাদশেও পরিবর্তন আসতে পারে। তিন পেসার খেললে তাসকিন আহমেদকে বিশ্রাম দিয়ে শরিফুল ইসলামকে সুযোগ দেওয়া হতে পারে। চার পেসার নিয়ে মাঠে নামলে তাইজুল ইসলামকে থাকতে হতে পারে দ্বাদশ খেলোয়াড় হিসেবে।

অস্ট্রেলিয়ার জন্য এটি সিরিজ বাঁচানোর ম্যাচ, বাংলাদেশের জন্য সিরিজ জয়ের সুযোগ। নতুন ভেন্যুতে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিশোধের তাড়না আর বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস—দুই মিলিয়ে ম্যাকাইয়ের দ্বিতীয় টেস্ট তাই হয়ে উঠতে পারে আরও একটি স্মরণীয় অধ্যায়।

১২৯ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
খেলা নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন