এরা আসলে কী চায়?
বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬ ৫:৪৩ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
সবকিছুতেই তাদের আপত্তি, সবকিছুর বিরুদ্ধেই তাদের অন্তহীন বাধা—এটাই যেন আজ একশ্রেণির মানুষের দৈনন্দিন রুটিনে পরিণত হয়েছে। তাই প্রশ্ন জাগে, এই চক্রটি আদতে কী চায়?
নারীর ক্ষমতায়নের বিরোধিতা করা, নারী শিক্ষাকে সংকুচিত করার অপচেষ্টা চালানো, গান-বাজনা ও কনসার্ট বন্ধ করা, বাউলদের পেটানো, মাজার ভাঙা, নাটক মঞ্চায়নে বাধা দেওয়া, খেলাধুলায় নারীদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধের দাবি তোলা—এসব যেন তাদের নিয়মিত এজেন্ডা হয়ে গিয়েছে। এছাড়া শো-রুম উদ্বোধনে শিল্পীদের বাধা দেওয়া, ঘরের ভেতরে ঢুকে দম্পতিদের স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ের প্রমাণ চাওয়া, হোটেল-রিসোর্টে বেড়াতে যাওয়া সাধারণ মানুষকে হেনস্তা করা এবং নারীর পোশাক নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ও হেনস্তাতেই এই চক্র থেমে থাকেনি। এরা পুলিশ লাইনে ঢুকে পুলিশের কনসার্ট বন্ধ করে দেয় এবং ভাঙচুর চালায় ! চিন্তা করুন, এদের কত ঔদ্ধত্য। দু:খজনক সত্য, এটি এখন বাংলাদেশের নিয়মিত চালচিত্র।
এই কাজটি কারা করছে?
কখনো তৌহিদি জনতা, কখনো ঈমান-আকিদা রক্ষা কমিটি, কখনো জাগ্রত মুসলিম বা অনৈসলামিক কার্যকলাপ প্রতিরোধ কমিটি, আবার কখনো মাদ্রাসার শিক্ষক-ছাত্র কিংবা বিভিন্ন উগ্র ধর্মীয়-রাজনৈতিক সংগঠন জামায়াত-হেফাজতের ব্যানারে এই চক্রটি সক্রিয় রয়েছে। এরা কেবল দেশের স্বাভাবিক উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রাকেই বাধাগ্রস্ত করছে না, বরং মানুষের চিন্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ব্যক্তি ও সংগঠনের অধিকার এবং নাগরিক জীবনের মৌলিক স্বাধীনতায়ও চরমভাবে হস্তক্ষেপ করছে।
একটি নির্বাচিত সরকার এখন ক্ষমতায়। সংস্কার ও আধুনিকীকরণের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এদের এমন অপতৎপরতা সমাজকে পিছিয়ে দেওয়ার এক গভীর ষড়যন্ত্র ছাড়া আর কিছুই নয়। মাথায় একটা প্রশ্ন বারবার ঘুরেফিরে আসছে—একটি প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজব্যবস্থার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে এই চক্রটি ঠিক কোন সমাজ বিনির্মাণ করতে চায়? এরা আসলে সমাজকে কোন অন্ধকারে নিয়ে যেতে চাইছে?
এদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলে দেখবেন, এরা আজ পুলিশ লাইন আক্রমণ করেছে, কাল জাতীয় সংসদে ঢুকে ভাঙচুর চালাবে।
সাঁইজীর সেই গানের কলি মনে করিয়ে দিই— "সময় গেলে সাধন হবে না..."
লেখক: গণমাধ্যমকর্মী।
১২২ বার পড়া হয়েছে