সুন্দরবনের ১৫০ বন্যপ্রাণী শিকারির তালিকা গোয়েন্দা সংস্থার হাতে
বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬ ৪:৩৮ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের বাঘ ও হরিণসহ বিপন্ন বন্যপ্রাণী রক্ষায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। এরই মধ্যে বনের জীববৈচিত্র্য ধ্বংসকারী ১৫০ জন সক্রিয় শিকারির একটি তালিকা তৈরি করেছে বন বিভাগ। অপরাধীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নিতে তালিকাটি ইতিমধ্যে গোয়েন্দা সংস্থার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
পূর্ব সুন্দরবন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বিগত বছরগুলোর তুলনায় বর্তমানে সুন্দরবনের অভ্যন্তরে বন অপরাধ অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে। বনরক্ষীদের কঠোর নজরদারি, নিয়মিত টহল ও বিশেষ অভিযানের কারণে অপরাধী চক্রগুলো কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। ফলে বিশ্বের বৃহত্তম এই ম্যানগ্রোভ বনে বন্যপ্রাণী নিধন ও মূল্যবান বনজ সম্পদ পাচারের প্রবণতা অনেকাংশে কমে এসেছে এবং স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে শুরু করেছে বনের সামগ্রিক জীববৈচিত্র্য।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সুন্দরবন সংলগ্ন বাগেরহাট, মোংলা, খুলনার কয়রা এবং বরগুনার পাথরঘাটা অঞ্চলের বেশ কিছু চিহ্নিত চোরা শিকারি এসব অপকর্মের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত রয়েছে। সুন্দরবনের হরিণ ও বাঘ শিকারের মূল হোতাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি প্রদান করা সম্ভব হলে বনের প্রাকৃতিক পরিবেশ পুরোপুরি নিরাপদ হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বন বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে সুন্দরবনে অন্তত ৪৭৪টি বিশেষ অপরাধবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে ৩৯৬ জনকে অভিযুক্ত করে মোট ২৪১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সাথে চোরা শিকারিদের দমনে তৈরি করা ১৫০ জনের বিশেষ তালিকাটি বর্তমানে আইন-শৃঙ্খলা ও গোয়েন্দা বাহিনীর কঠোর নজরদারিতে রয়েছে।
পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী রক্ষায় তাদের নিয়মিত টহল ও চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় জনগনকে সাথে নিয়ে অপরাধ দমনের এই সার্বিক কার্যক্রম সচল রাখা গেলে খুব দ্রুতই সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ চোরা শিকারি ও অপরাধমুক্ত করা সম্ভব হবে।
১৫৯ বার পড়া হয়েছে