চুয়াডাঙ্গায় জাতীয় মৎস্য পক্ষের উদ্বোধন, পোনা অবমুক্ত
সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬ ১:৫০ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
‘রুপালি মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গায় তিন দিনব্যাপী জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬-এর উদ্বোধন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে রোববার দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে বর্ণাঢ্য র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। পরে আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ ও মাথাভাঙ্গা নদীতে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়।
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসন ও মৎস্য অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে জাতীয় মৎস্য পক্ষের কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। রোববার দুপুর ১২টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর থেকে র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়। এরপর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ। জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের সিনিয়র সহকারী পরিচালক সরোজ কুমার মিস্ত্রির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার।
আলোচনা সভায় জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফরহাদুর রেজা বলেন, দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ২ দশমিক ৫৮ শতাংশ আসে মৎস্য খাত থেকে। চুয়াডাঙ্গা জেলায় মাছ চাষের জন্য প্রায় ৫ হাজার ৪২২ হেক্টর জলাশয় রয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে জেলায় ২১ হাজার ৬১৫ মেট্রিক টন মাছ উৎপাদিত হয়েছে। তবে স্থানীয় চাহিদার তুলনায় প্রায় ১ হাজার ৪৫৬ মেট্রিক টন মাছের ঘাটতি রয়েছে।
তিনি বলেন, চুয়াডাঙ্গায় মূলত কার্পজাতীয় মাছের চাষ বেশি হয়। মাছ উৎপাদন বাড়াতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও প্রদর্শনী কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে গত পাঁচ বছরে মৎস্য খাতের উন্নয়নে জেলায় কোনো প্রকল্প না থাকায় কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি ব্যাহত হয়েছে।
প্রধান অতিথি মাসুদ পারভেজ বলেন, মৎস্য খাত বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। এ খাতকে আরও আধুনিক ও টেকসই করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। মাছ চাষে প্রয়োজনীয় সার সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভেজাল খাদ্য ব্যবহার বন্ধে চাষিদের সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, অনেক তরুণ বেকার অবস্থায় রয়েছেন। তাঁরা মৎস্য অধিদপ্তর বা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ নিয়ে মাছ চাষে যুক্ত হতে পারেন। এর মাধ্যমে বেকার তরুণদের স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। তিনি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে জেলার মৎস্য উৎপাদন বাড়ানোর জন্য চাষিদের প্রতি আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাতীয় মৎস্য পক্ষের বিভিন্ন কর্মসূচি তুলে ধরেন। তিনি অবৈধ জাল ব্যবহার ও মা মাছ ধরা বন্ধে প্রশাসনের তৎপরতা অব্যাহত রাখার কথা জানান।
আলোচনা সভা শেষে চুয়াডাঙ্গার চার উপজেলার সফল ও আদর্শ মৎস্য চাষিদের মধ্য থেকে চারজনকে শ্রেষ্ঠ মৎস্য চাষি হিসেবে পুরস্কার ও সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়। মৎস্য সম্পদ উন্নয়নে বিশেষ অবদানের জন্য তাঁদের এ সম্মাননা দেওয়া হয়।
পরে চুয়াডাঙ্গা শহরের পুলিশ পার্কসংলগ্ন মাথাভাঙ্গা নদীতে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বি. এম. তারিক উজ জামান, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সাহাবুদ্দিন, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপপরিচালক দীপক কুমার সাহা, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সিদ্দিকুর রহমান, জেলা মার্কেটিং কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম, চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল হক স্বপন ও পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি।
১০৫ বার পড়া হয়েছে