পাবনার ফরিদপুরে ভেঙে পড়েছে চিকিৎসাসেবা, রোগীদের ভোগান্তি চরমে
শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:৩৪ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
পাবনার ফরিদপুর উপজেলায় ভেঙে পড়েছে সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা। ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত রোগীর চাপ এবং একটি বেসরকারি হাসপাতালের অস্ত্রোপচার কার্যক্রম বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজার হাজার রোগী ও তাদের স্বজনরা।
পাবনার ফরিদপুর উপজেলার প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার বাসিন্দার একমাত্র প্রধান ভরসা ৫০ শয্যাবিশিষ্ট সরকারি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। তবে বিশাল জনসংখ্যার তুলনায় হাসপাতালটির ধারণক্ষমতা সীমিত হওয়ায় প্রতিদিন চিকিৎসা নিতে আসা মানুষদের নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। সরকারি সুযোগ-সুবিধার সংকটে বাধ্য হয়ে অনেকেই স্থানীয় বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালের দ্বারস্থ হন।
সম্প্রতি উপজেলার অন্যতম চিকিৎসাসেবা কেন্দ্র ‘আল-মদিনা’ বেসরকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করা কয়েকজন রোগীর শরীরে যক্ষ্মা শনাক্ত হয়। এই ঘটনার পর জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশে হাসপাতালটির সব ধরনের অপারেশন কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) একটি বিশেষ তদন্ত দল ইতিমধ্যে হাসপাতালটি পরিদর্শন করে নমুনা সংগ্রহ করেছে।
প্রধান একটি বেসরকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচার বন্ধ থাকায় পার্শ্ববর্তী অন্যান্য চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোতে রোগীর চাপ কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে শয্যা সংকটে পড়ে মুমূর্ষু রোগীদের মানসম্মত সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। জরুরি অস্ত্রোপচারের জন্য অনেক রোগীকে এখন দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে পাবনা সদর কিংবা সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে যেতে হচ্ছে। এতে যাতায়াত ও আনুষঙ্গিক খরচ বাড়ার পাশাপাশি চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।
পাবনার সিভিল সার্জন আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন, আইইডিসিআরের তদন্ত কমিটির প্রাথমিক প্রতিবেদনটি তারা পর্যালোচনা করছেন। সার্বিক নিরাপত্তা ও চিকিৎসাসেবার মান নিশ্চিত করার বিষয়টি খতিয়ে দেখে হাসপাতালটিতে পুনরায় অস্ত্রোপচারের অনুমতি দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। চিকিৎসাসেবা স্বাভাবিক করতে সরকারি হাসপাতালে শয্যা সংখ্যা বাড়ানো এবং বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
১২৬ বার পড়া হয়েছে