দখল ও দূষণে অস্তিত্ব সংকটে মাগুরার ৪শ' বছরের রামসাগর খাল
শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬ ৬:১০ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ও প্রায় ৪০০ বছরের প্রাচীন রামসাগর খালটি অবৈধ দখল ও মারাত্মক দূষণের কারণে এখন অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। মোঘল আমলে নির্মিত এই ঐতিহাসিক খালটির প্রবাহ বন্ধ হয়ে পড়ায় স্থানীয় বিলগুলোতে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র জলাবদ্ধতা। স্থানীয় প্রশাসনের উদাসীনতা ও প্রভাবশালীদের দখলের কারণে ধ্বংসের মুখে পড়া এই জলাশয়টি রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মোঘল আমলে স্বাধীনচেতা রাজা সীতারাম রায় মহম্মদপুরে রাজবাড়ি নির্মাণের সময় রাজধানীর নিরাপত্তা রক্ষা ও সেচ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য মধুমতি নদী থেকে কাতলাশুরি বিল পর্যন্ত এই রামসাগর খালটি খনন করেছিলেন। শত শত বছর ধরে এই অঞ্চলের কৃষকদের জীবন-জীবিকা এবং কৃষিকাজের অন্যতম প্রধান উৎস ছিল এই ঐতিহাসিক খালটি।
বর্তমানে খাস খতিয়ানভুক্ত এই ঐতিহ্যবাহী খালটি ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। মহম্মদপুর সদরের কাতলাশুরি বিলসহ অন্তত পাঁচটি বিলের প্রায় ১০ হাজার একর কৃষিজমির অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশন এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচের পানির জোগান দিতে এই খাল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অথচ বাওইজানি এলাকার পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্লুইস গেট সংলগ্ন অংশসহ বিভিন্ন স্থানে খালের দুই পাড় দখল করে অবৈধভাবে পাকা স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে।
স্থানীয় পরিবেশবিদদের অভিযোগ, সরকারি কর্মকর্তাদের চোখের সামনেই খাল দখল করে একের পর এক বহুতল ভবন নির্মিত হলেও নেওয়া হচ্ছে না কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ। সম্প্রতি খাল পুনঃখনন কর্মসূচির জন্য বরাদ্দকৃত ২ কোটি ২০ লাখ টাকা খরচ করতে না পেরে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত পাঠিয়েছে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন, যা চরম উদাসীনতার এক দৃষ্টান্ত। অন্যদিকে, বাজারের সমস্ত বর্জ্য ও পয়ঃনিষ্কাশনের লাইন সরাসরি এই খালে সংযুক্ত করায় পানির স্বাভাবিক গতিপথ ও পরিবেশ মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়েছে।
এ বিষয়ে মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানান, খাল দখল ও দূষণের বিষয়টি জানার পর তারা দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অপরদিকে, মাগুরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জানিয়েছেন, অবৈধ দখলদারদের ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত নোটিশ পাঠানো হয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতার মাধ্যমে বড় ধরনের উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে খালটি পুনঃখননের কাজ শুরু করা হবে।
১২৩ বার পড়া হয়েছে