সর্বশেষ

সারাদেশ

ফরিদপুর সরকারি শিশু পরিবারে ধর্ষণ: প্রতিবেদন জমা, বরখাস্ত ৬

আবিদ জামান, ফরিদপুর
আবিদ জামান, ফরিদপুর

শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬ ৩:৪৭ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
ফরিদপুরের সরকারি শিশু পরিবারে (বালিকা) এক কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়ে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় অবশেষে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে গঠিত কমিটি। প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চরম দায়িত্বহীনতা ও অবহেলার প্রমাণ পাওয়ায় তত্ত্বাবধায়কসহ ছয়জনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

ধর্ষণের দীর্ঘ ছয় মাস পর ভুক্তভোগী ওই কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসলে পুরো ফরিদপুর জেলাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় ওঠে। এই ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়েরের পর মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন জেলা প্রশাসক মো. মাজহারুল ইসলাম।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুস্মিতা সাহার নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটি দীর্ঘ তদন্ত শেষে সম্প্রতি জেলা প্রশাসকের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। প্রতিবেদনে সরকারি শিশু পরিবারের কর্মকর্তাদের চরম উদাসীনতা ও সীমাহীন গাফিলতিকে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি অভিযুক্ত ব্যক্তির ‘বিকৃত রুচি’ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ তদারকির অভাবও উঠে এসেছে তদন্তে।

তদন্ত কমিটির তথ্যানুযায়ী, ওই শিশুনিবাসের নিরাপত্তা ও সুশাসনের ব্যাপক ঘাটতি ছিল। বালিকাদের আচরণ নিয়ন্ত্রণ এবং তাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছেন দায়িত্বরত আয়া ও প্রহরীরা। এমনকি বিদ্যালয় থেকে বিভিন্ন সময়ে মেয়েদের নিয়মিত ক্লাসে অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি তত্ত্বাবধায়ককে জানানো হলেও তিনি কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি, যা চরম গাফিলতির প্রমাণ দেয়।

এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় দায়িত্বহীনতার অভিযোগে ইতিমধ্যেই সমাজসেবা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সহকারী পরিচালক ও শিশু পরিবারের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ আরিফ হোসেনসহ মোট ছয়জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সাথে তদন্ত কমিটি শিশু পরিবার পরিচালনার ক্ষেত্রে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও দূরদর্শী সুপারিশ প্রদান করেছে।

কমিটির সুপারিশমালার মধ্যে অন্যতম হলো—বালিকাদের এই প্রতিষ্ঠানে কোনো পুরুষ কর্মকর্তার পরিবর্তে একজন নারী তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ করা, প্রতি মাসে অন্তত একবার নিবাসীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিশ্চিত করা এবং দর্শনার্থীদের নিয়মিত তথ্য সংরক্ষণ করা। জেলা প্রশাসক মো. মাজহারুল ইসলাম জানিয়েছেন, দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও আইনি পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর এই তদন্ত প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।

১৩৪ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন