সর্বশেষ

জাতীয়

জুলাইয়ের শক্তিগুলো কেন বিভক্ত, কোথায় মিল–অমিল

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬ ৫:৫১ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে পুনর্বাসনের বিরোধিতায় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে নীতিগত মিল থাকলেও সংস্কার, সংবিধান, নির্বাচন এবং রাজনৈতিক বয়ানকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে দূরত্ব বেড়েছে। গত দুই বছরে এই মতপার্থক্য রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, পাল্টাপাল্টি বক্তব্য এবং বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষের ঘটনাতেও রূপ নিয়েছে।

২০২৪ সালের জুলাইয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থেকে সূচিত গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়। আওয়ামী লীগের শাসনামলে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী দীর্ঘদিন আন্দোলন করলেও সরকার পরিবর্তনের ঘটনা ঘটে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে।

অভ্যুত্থানের পর ছাত্রনেতৃত্বের উদ্যোগে গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। তবে আওয়ামী লীগের পুনরুত্থান ঠেকানোর প্রশ্নে ঐকমত্য থাকলেও রাষ্ট্র সংস্কার, সংবিধান সংশোধন, নির্বাচন এবং ক্ষমতার কাঠামো নিয়ে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির অবস্থানে স্পষ্ট পার্থক্য দেখা দেয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগের পুনরাগমন ঠেকানো, ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের কিছু প্রশ্ন এবং জাতীয় নিরাপত্তার মতো বিষয়ে বিভিন্ন দলের মধ্যে মিল রয়েছে। তবে সংবিধান সংস্কার, ক্ষমতার ভারসাম্য এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কাঠামো নিয়ে মতবিরোধ ক্রমেই প্রকট হয়েছে।

শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর ছাত্রনেতারা জাতীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব দিলেও বিএনপি এতে সম্মত হয়নি। পরে অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন—এই তিনটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। জামায়াত ও এনসিপি এই ধারার প্রতি সমর্থন জানালেও বিএনপি দ্রুত নির্বাচন আয়োজনকে বেশি গুরুত্ব দেয়।

এরপর থেকেই সংস্কার ও সংবিধান সংশোধনের প্রশ্নে দলগুলোর মধ্যে অবস্থানগত পার্থক্য স্পষ্ট হতে থাকে।

এনসিপি নতুন সংবিধান প্রণয়নের আগে গণপরিষদ নির্বাচনের পক্ষে অবস্থান নেয়। জামায়াতে ইসলামী সংবিধান সংস্কারের আগে গণভোটের দাবি জানায়। অন্যদিকে বিএনপি নির্বাচনের দিন গণভোট এবং পরে সংসদের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের পক্ষে মত দেয়। সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর সাংবিধানিক ক্ষমতা কমানোর বিষয়েও বিএনপির আপত্তি ছিল।

জুলাই অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব ও কৃতিত্ব নিয়েও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

এনসিপির নেতারা দাবি করেন, বিএনপি দীর্ঘদিন আন্দোলন করেও সরকার পরিবর্তন করতে পারেনি; ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানই পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি ছিল। জবাবে বিএনপির নেতারা বলেন, ১৫ বছরের আন্দোলনের ধারাবাহিকতাই জুলাই অভ্যুত্থানের ভিত্তি তৈরি করেছে।

জামায়াতে ইসলামী আনুষ্ঠানিকভাবে নেতৃত্বের দাবি না করলেও দলটির অনেক নেতাকর্মী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের ভূমিকার কথা তুলে ধরছেন।

এর পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলো একে অপরের অতীত অবস্থান, আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পর্ক এবং রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনা করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের প্রবণতা বেড়েছে।

জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত গণভোটে অনুমোদিত জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন নিয়েও নতুন করে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে।

জামায়াতে ইসলামী গণভোটে অনুমোদিত সংস্কার দ্রুত বাস্তবায়নের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। অন্যদিকে বিএনপি ওই আদেশের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক সংস্কারের বিষয়ে ভিন্নমত প্রকাশ করেছে।

সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন ও বাধ্যতামূলক সংস্কার বাস্তবায়ন নিয়েও দুই দলের অবস্থান ভিন্ন হওয়ায় বিষয়টি এখনো অমীমাংসিত রয়েছে।

রাজনৈতিক মতবিরোধের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীর কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এ ছাড়া বিভিন্ন জেলায় এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। অন্যদিকে বিএনপি ও জামায়াত-সমর্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যেও সংঘর্ষ, হতাহতের অভিযোগ এবং স্থানীয় রাজনৈতিক বিরোধের একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে অভিন্ন লক্ষ্য থাকলেও রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা, সংস্কার বাস্তবায়নের কৌশল এবং ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থা নিয়ে মতপার্থক্য স্বাভাবিকভাবেই বেড়েছে।

তাদের মতে, গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে মতবিরোধ ও রাজনৈতিক বিতর্ক স্বাভাবিক হলেও তা যেন সহিংসতায় রূপ না নেয় এবং রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে—সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

১২২ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
জাতীয় নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন