কুষ্টিয়ায় তামাক ব্যবসায়ীর কাছে ২ কোটি টাকা চাঁদা দাবি, থানায় জিডি
মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬ ৬:২৯ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
কুষ্টিয়ায় ন্যাশনাল লীফ ট্যোবাকোর স্বত্বাধিকারী রাইসুল হকের কাছে ২ কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক কৃষকদল নেতার ভাইয়ের বিরুদ্ধে। চাঁদা না পেয়ে প্রশাসনকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে গুদামে অভিযান চালানো এবং ব্যবসা বন্ধের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় নিরাপত্তা চেয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী।
জিডির বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার তালবাড়িয়া ইউনিয়নের গোবিন্দপুর এলাকায় ন্যাশনাল লীফ ট্যোবাকোর একটি তামাক সংরক্ষণের গুদাম রয়েছে। সম্প্রতি স্থানীয় কৃষকদল নেতা সুমন সরকারের ভাই শান্ত সরকার ও তার সহযোগীরা রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে নানাভাবে এই প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করার চেষ্টা চালাচ্ছিলেন। একপর্যায়ে তারা প্রতিষ্ঠানের দুটি তামাকবাহী ট্রাক আটকে রাখেন। পরে ট্রাক ছেড়ে দিলেও কোম্পানির দুই ম্যানেজারকে ডেকে নিয়ে ২ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।
অভিযোগ উঠেছে, পরবর্তীতে চাঁদার অঙ্ক কমিয়ে ১ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয় এবং টাকা না দিলে এলাকায় ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেওয়া হয়। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার রাইসুল হককে একাধিক অপরিচিত নম্বর থেকে কল ও হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ পাঠিয়ে সমঝোতার নামে অনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা হয়। চাঁদা না দিলে নকল ব্যান্ডরোল দিয়ে ফাঁসানো এবং প্রশাসনের মাধ্যমে অভিযান চালানোর হুমকিও দেওয়া হয় মেসেজে। বিষয়টি জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের জানানো হলেও কোনো প্রতিকার মেলেনি বলে ভুক্তভোগী জানান।
হুমকিদাতাদের অনৈতিক দাবি পূরণ না করায় গত ২ আগস্ট কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনিরা আক্তারের নেতৃত্বে গোবিন্দপুরের ওই গুদামে ঝটিকা অভিযান চালানো হয়। সার্চ ওয়ারেন্ট ছাড়াই গুদামের তালা ভেঙে তল্লাশি চালানো হলেও সেখানে কোনো অবৈধ পণ্য বা তামাক পাওয়া যায়নি। শেষ পর্যন্ত গুদাম নির্মাণে লে-আউট ডিজাইন ও সাইনবোর্ড না থাকার অভিযোগে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়, যা তাৎক্ষণিকভাবে পরিশোধ করা হয়।
ব্যবসায়ী রাইসুল হক জানান, তিনি সরকারের সমস্ত নিয়ম মেনে প্রতি বছর নিয়মিত ভ্যাট ও ট্যাক্স প্রদান করে আসছেন। রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে একটি মহল তাঁর সুনাম ও ব্যবসার ক্ষতি করার জন্য ক্রমাগত ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। যেকোনো সময় তাঁর বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে—এমন আশঙ্কায় তিনি কুষ্টিয়া মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। পুলিশ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
১৬৭ বার পড়া হয়েছে