বাংলাদেশে বিনিয়োগের ইতিবাচক বার্তা যুক্তরাষ্ট্রের, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দূতের বৈঠক
শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬ ১০:০৫ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
বাংলাদেশে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসছে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গর। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংশোধিত ভ্রমণ সতর্কতা (ট্রাভেল অ্যাডভাইজরি) আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ইতিবাচক বার্তা দেবে এবং বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে।
শনিবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গর। পরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে বৈঠকের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, রোহিঙ্গা সংকট, খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের (এফডিএ) সহযোগিতা, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
সার্জিও গর বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের আস্থা রয়েছে। তিনি জানান, বাংলাদেশকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাভেল অ্যাডভাইজরি ইতিবাচকভাবে সংশোধন করা হয়েছে, যা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ সম্পর্কে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেবে।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে বিশেষ দূত জানান, তিনি সম্প্রতি কক্সবাজারের রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির পরিদর্শন করেছেন। বিপুলসংখ্যক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া এবং তাদের জন্য মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখায় বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের প্রশংসা করেন তিনি।
জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তার বড় অংশই যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসে। এ জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্র সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই ও রাজনৈতিক সমাধানের প্রয়োজনীয়তার ওপরও উভয় পক্ষ গুরুত্বারোপ করে।
বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের (এফডিএ) সহযোগিতায় বাংলাদেশে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম পুনরায় চালুর বিষয়েও আলোচনা হয়। এ বিষয়ে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
বাংলাদেশে আরও বেশি মার্কিন বিনিয়োগ আকর্ষণের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী সয়াবিন, তুলা, গমসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্যের সংরক্ষণাগার নির্মাণে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। তাঁর মতে, এসব খাতে বিনিয়োগ বাড়লে দেশের সরবরাহব্যবস্থা আরও শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক হবে।
তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশের সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। এ প্রসঙ্গে সার্জিও গর বলেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের ‘প্যাক্স সিলিকা’ উদ্যোগের সম্ভাব্য অংশীদার হতে পারে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সেমিকন্ডাক্টর এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজসম্পদের নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাসহ দুই দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
১১৯ বার পড়া হয়েছে