এমসি কলেজ ধর্ষণ মামলায় সাইফুরের মৃত্যুদণ্ড, ৩ জনের যাবজ্জীবন
মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬ ৮:৪৬ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের আলোচিত মামলায় একজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় চার আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল এমসি কলেজে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় করা মামলার রায় ঘোষণা করেছেন। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিচারক স্বপন কুমার সরকার এ রায় দেন।
রায়ে আসামি সাইফুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, তারেকুল ইসলাম তারেক এবং অর্জুন লস্করকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মামলার অপর চার আসামিকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস দিয়েছেন আদালত।
আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের পর মোট ২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হয়। সাক্ষীদের মধ্যে ছিলেন ভুক্তভোগী নারী, তাঁর স্বামী, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট, এমসি কলেজের একজন শিক্ষক এবং ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় শাহপরান মাজার এলাকা থেকে ফেরার সময় এমসি কলেজের প্রধান ফটকের সামনে একটি দম্পতির ব্যক্তিগত গাড়ি থামানো হয়। পরে কয়েকজন যুবক তাঁদের কলেজের ছাত্রাবাস এলাকায় নিয়ে যান। সেখানে স্বামীকে আটকে রেখে গাড়ির ভেতরে স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। একই সঙ্গে তাঁদের কাছ থেকে টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেওয়া এবং গাড়ি আটকে রাখার অভিযোগও করা হয়।
ঘটনার রাতেই ভুক্তভোগীর স্বামী শাহপরান থানায় মামলা করেন। প্রথমে ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হলেও তদন্তে আরও দুইজনের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায়। গাড়ি আটকে রেখে চাঁদা আদায়ের অভিযোগে করা পৃথক মামলাটিও একই সঙ্গে বিচার করা হয়।
ঘটনার পর আসামিরা আত্মগোপনে গেলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে তিন দিনের মধ্যে আটজনকেই গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্ত চলাকালে কয়েকজন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ডিএনএ পরীক্ষায় আট আসামির মধ্যে ছয়জনের সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া আলামতের মিল পাওয়া গেছে।
২০২১ সালের ৩ ডিসেম্বর শাহপরান থানার তৎকালীন পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। এরপর অভিযোগ গঠন, সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে মামলাটি রায়ের পর্যায়ে পৌঁছায়।
১১৭ বার পড়া হয়েছে