সর্বশেষ

সারাদেশ

বন্যা পরিস্থিতি: চট্টগ্রামে বিপর্যয়, মৃত্যু ৪৪, ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৮ লাখেরও বেশি মানুষ

ডেস্ক রিপোর্ট
ডেস্ক রিপোর্ট

সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬ ৫:৪৭ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
টানা আট দিনের ভারী বর্ষণ, উজানের পাহাড়ি ঢল এবং একাধিক পাহাড়ধসে চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচ জেলায় ভয়াবহ দুর্যোগ সৃষ্টি হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৪৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বন্যার পানি কিছু এলাকায় নামতে শুরু করলেও লাখো মানুষ এখনো পানিবন্দি। এদিকে আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দেশের উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় নতুন করে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

সারাদেশে বন্যা পরিস্থিতি

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি—এই পাঁচ জেলায় প্রায় ৮ লাখ ৬৭ হাজার মানুষ বন্যা ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৩৯ জন এবং প্রাণ হারিয়েছেন ৪৪ জন।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চট্টগ্রাম জেলা। এখানে প্রায় ৬ লাখ ৬২ হাজার মানুষ এখনো বন্যার পানিতে দুর্ভোগে রয়েছেন। সাতকানিয়া ও বাঁশখালী উপজেলায় পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি সংকটপূর্ণ। অনেক এলাকায় ঘরবাড়ি, সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র পানিতে তলিয়ে যায়। বিশুদ্ধ পানির সংকট এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

সাতকানিয়ার ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার অধিকাংশ এলাকা বন্যাকবলিত হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কয়েক দিন পানিবন্দি থাকায় রোগীদের কষ্ট করে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। অন্যদিকে বাঁশখালীর চাম্বল, ছনুয়া, সরল, পুঁইছড়ি, বাহারছড়া, বৈলছড়ি, গণ্ডামারা ও শেখেরখীল ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। হাজারো মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন।

জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, চট্টগ্রাম জেলায় এখন পর্যন্ত ১১ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। আর বিভাগজুড়ে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে কক্সবাজারে, যেখানে মারা গেছেন ২৩ জন। তাঁদের মধ্যে ১৩ জন রোহিঙ্গা। বান্দরবানে ছয়জন এবং রাঙামাটিতে তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

টানা বৃষ্টি ও বন্যায় কৃষি খাতেও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পাঁচ জেলায় প্রায় ১৮ হাজার ৯৩৩ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আউশ ধান, আমনের বীজতলা, সবজি, পান বরজসহ বিভিন্ন ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে হাজারো কৃষক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের হিসাবে জেলার ৫১৪টি সড়ক এবং ১৭৬টি সেতু ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাঁচ জেলার সম্মিলিতভাবে প্রায় ২৪১ কিলোমিটার জাতীয়, আঞ্চলিক ও জেলা সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিক মেরামতে কয়েক দশ কোটি টাকা এবং স্থায়ী সংস্কারে দুই শতাধিক কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।

টানা বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথও পাঁচ দিন বন্ধ ছিল। রেললাইন থেকে পানি নেমে যাওয়ার পর মেরামত শেষে আবার ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে।

বান্দরবানে বৃষ্টির পরিমাণ কমায় অনেক এলাকায় পানি নেমেছে। তবে জেলার বিভিন্ন সড়কে এখনো পাহাড়ধসের কারণে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। কিছু এলাকায় সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং থানচির সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।

জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, পাহাড়ধস ও পানিতে ভেসে সেখানে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। জেলার ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্রে কয়েক হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।

বন্যাকবলিত এলাকায় জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, শুকনা খাবার এবং চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে দুর্গত মানুষের কাছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, সাঙ্গু, কুশিয়ারা ও সোমেশ্বরী নদীর পানি কয়েকটি পয়েন্টে এখনো বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ির কয়েকটি নদীর পানি আরও বাড়তে পারে।

এ ছাড়া সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, শেরপুর ও ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী নদীগুলোর পানিও বৃদ্ধি পেতে পারে। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সুরমা নদীর আশপাশের এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উত্তরাঞ্চলেও নতুন করে বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে সিলেট অঞ্চলে আপাতত বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা না থাকলেও ভারতের মেঘালয়ে ভারী বৃষ্টি হলে নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

মৌলভীবাজারে পানি কমতে শুরু করলেও বহু মানুষ এখনো দুর্ভোগে রয়েছেন। হবিগঞ্জে খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে কয়েকটি ইউনিয়নের অন্তত ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। কৃষিজমি, মাছের ঘের ও পোলট্রি খামারের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

এদিকে নরসিংদীর বেলাব উপজেলায় টানা বৃষ্টিতে ঘরের দেয়াল ধসে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। বগুড়ার ধুনট উপজেলায় যমুনা নদীর ভয়াবহ ভাঙন স্থানীয় বাসিন্দাদের নতুন করে উদ্বেগে ফেলেছে।

১২৫ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন