শরিক দলগুলোর সঙ্গে ২০ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজ
সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬ ৬:৫০ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর সঙ্গে তৈরি হওয়া দূরত্ব ও অসন্তোষ নিরসনে উদ্যোগ নিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আগামী ২০ জুলাই রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় মিত্র দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে নৈশভোজ ও বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বিএনপির নেতৃত্বাধীন যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর সঙ্গে দীর্ঘদিনের মান-অভিমান ও রাজনৈতিক টানাপোড়েন কমাতে সরাসরি আলোচনায় বসতে যাচ্ছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নির্বাচনের আগে দেওয়া রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন নিয়ে শরিকদের মধ্যে যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, তা নিয়েই বৈঠকে আলোচনা হতে পারে বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির পক্ষ থেকে মিত্র দলগুলোকে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। তবে সরকার গঠনের পর এসব প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি—এমন অভিযোগ রয়েছে শরিক দলগুলোর কয়েকটির। এ নিয়ে তাদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হয়।
বিএনপির কয়েকজন মিত্র দলের নেতা জানান, বিষয়গুলো নিয়ে এরই মধ্যে বিএনপির দায়িত্বশীল নেতাদের সঙ্গে তাদের আলোচনা হয়েছে। কেউ কেউ বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছেন। এখন শরিকদের সঙ্গে সরাসরি বসে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, ২০ জুলাই যমুনায় আয়োজিত নৈশভোজে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে। সেখানে রাজনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা, ভবিষ্যৎ করণীয় এবং শরিকদের প্রত্যাশা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একটি সূত্রও যমুনায় এ ধরনের আয়োজনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সূত্রটি জানিয়েছে, আমন্ত্রিত অতিথিদের কাছে চিঠি পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
গণফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সুব্রত চৌধুরী বলেন, তারেক রহমানের সঙ্গে বসার বিষয়ে তিনি শুনেছেন, তবে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো দিন-তারিখের চিঠি পাননি।
এনপিপির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ জানান, বিএনপির চেয়ারম্যানের সঙ্গে শরিকদের বৈঠক শিগগিরই হওয়ার কথা রয়েছে। ২০ জুলাই বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও তিনি জানান।
ভাসানী জনশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বাবলু বলেন, বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার কথা রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির মহাসচিবের সঙ্গেও কথা হয়েছে। চলতি সপ্তাহেই আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পাওয়ার আশা করছেন তিনি।
বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে, যেসব শরিক দলের নেতারা ইতোমধ্যে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন, তাদের এই নৈশভোজে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে না। বরং নির্বাচনে জয় পাননি বা সংসদে প্রতিনিধিত্ব নেই—এমন মিত্রদের মূল্যায়ন ও তাদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনাই বৈঠকের অন্যতম বিষয় হতে পারে।
১২৫ বার পড়া হয়েছে