ঢাকায় ২৪ ঘণ্টায় ১৭৫ মিমি বৃষ্টি, আরও ৫ দিন ভারী বর্ষণের আভাস
সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬ ৫:১০ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
রাজধানী ঢাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় ১৭৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর, যা ২০০৯ সালের পর সর্বোচ্চ। মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় আগামী পাঁচ দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাঝারি থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি। এদিকে টানা বর্ষণে চট্টগ্রাম অঞ্চলের কয়েকটি জেলায় বন্যা ও পাহাড়ধসে প্রাণহানির ঘটনাও বেড়েছে।
রাজধানী ঢাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় ১৭৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এটি গত ১৭ বছরের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত। এর আগে ২০০৯ সালে এক দিনে সর্বোচ্চ ৩৩৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছিল।
আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হক জানান, বাংলাদেশের ওপর মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে এমন বৃষ্টিপাত স্বাভাবিক হলেও কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।
একই সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়েছে। চট্টগ্রামে ১৬০ মিলিমিটার, কক্সবাজারে ১১৩ মিলিমিটার, আমবাগানে ১৪০ মিলিমিটার এবং ফরিদপুরে ১১১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী পাঁচ দিন দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। বিশেষ করে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।
১৩ জুলাইয়ের পূর্বাভাস অনুযায়ী, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও খুলনা বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় এবং ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক স্থানে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় কিছু এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়লেও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
১৪ জুলাই রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের অনেক স্থানে এবং দেশের অন্যান্য বিভাগের কিছু কিছু এলাকায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় রংপুর ও রাজশাহীর কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণ হতে পারে। দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।
এ ছাড়া ১৫ ও ১৬ জুলাই খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক স্থানে এবং দেশের অন্যান্য অঞ্চলের কিছু এলাকায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে। এই সময় দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
অন্যদিকে টানা বর্ষণ, বন্যা ও পাহাড়ধসের কারণে চট্টগ্রাম অঞ্চলের পাঁচ জেলায় প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৫১ জনে পৌঁছেছে। এর মধ্যে কক্সবাজারে ২৮ জন, চট্টগ্রামে ১৩ জন, বান্দরবানে ৬ জন, রাঙ্গামাটিতে ৩ জন এবং মৌলভীবাজারে ১ জন মারা গেছেন। এছাড়া বিভিন্ন জেলায় মোট ৩৯ জন আহত হয়েছেন।
১২৩ বার পড়া হয়েছে