বান্দরবানে ৬ শতাধিক বন্যাকবলিতকে উদ্ধার করেছে বিজিবি
সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬ ৫:৩৫ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
টানা ভারী বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল, বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত ১১ জেলায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) উদ্ধার, ত্রাণ, চিকিৎসাসেবা ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে কাজ করছে। বাহিনী জানিয়েছে, বর্তমানে ৯০টি পয়েন্টে সার্বক্ষণিক নজরদারির পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী মানবিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। বান্দরবানে এখন পর্যন্ত ১১৬ জন পর্যটকসহ ৬ শতাধিক মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে।
বন্যা ও দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় চট্টগ্রাম, বান্দরবান, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, ফেনী, সিলেট, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা এবং জামালপুর জেলায় বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। আজ রোববার বিজিবি সদর দপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল, বন্যা ও ভূমিধসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধার অভিযান, নিরাপদ আশ্রয়ে স্থানান্তর, ত্রাণ বিতরণ, জরুরি চিকিৎসাসেবা, ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগব্যবস্থা পুনরুদ্ধার এবং ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষায় বিজিবি কাজ করছে।
বর্তমানে ১১ জেলার ৯০টি পয়েন্টে সার্বক্ষণিক বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও মনিটরিং করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক উদ্ধার ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রমও পরিচালিত হচ্ছে।
বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, শুধু বান্দরবানের বিভিন্ন এলাকা থেকেই এখন পর্যন্ত ১১৬ জন পর্যটকসহ ১২২টি পরিবারের ৬ শতাধিক মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ, ৪৮ জনকে জরুরি চিকিৎসাসেবা প্রদান, বান্দরবান-রোয়াংছড়ি সড়ক থেকে গাছ ও ধ্বংসাবশেষ অপসারণ এবং নাইক্ষ্যংছড়িতে ঝুঁকিপূর্ণ একটি সেতু রক্ষায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বিজিবি পৃথক এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, গত ৪ জুলাই ঢাকার চার শিক্ষার্থী বান্দরবানের থানচি উপজেলার অমিয়াখুম এলাকায় ভ্রমণে যান। ৭ জুলাই থেকে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে নদীপথ বন্ধ হয়ে গেলে তারা থুইসাপাড়ায় আটকা পড়েন। খবর পেয়ে বলিপাড়া ব্যাটালিয়নের (৩৮ বিজিবি) জিন্নাপাড়া ক্যাম্পের সদস্যরা সেখানে পৌঁছে তাদের নিরাপত্তা, খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করেন।
পরে সরকারি নির্দেশনার আলোকে ১১ জুলাই উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। বৈরী আবহাওয়ার কারণে সড়ক ও নৌপথ ব্যবহার সম্ভব না হওয়ায় বিজিবি সদস্যরা বিকল্প পাহাড়ি পথে হেঁটে পর্যটকদের নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসেন। পরদিন দীর্ঘ দুর্গম পথ অতিক্রম করে তাদের সীমান্ত সড়কে পৌঁছে বিজিবির গাড়িতে থানচিতে ফিরিয়ে আনা হয়।
উদ্ধার হওয়া চার শিক্ষার্থী জানান, আটকা পড়ার সময় থেকে উদ্ধার হওয়া পর্যন্ত বিজিবি সদস্যরা তাদের নিরাপত্তা, খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করেছেন।
১৩৩ বার পড়া হয়েছে