ইরানের সামরিক স্থাপনায় মার্কিন হামলা, হরমুজ উত্তেজনায় নতুন মোড়
সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬ ৫:৫৬ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উপকূলীয় রাডার, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতাসহ একাধিক সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। একই সময়ে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে বিস্ফোরণের খবর প্রকাশ করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম। পাল্টাপাল্টি উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তাদের দাবি, হামলার লক্ষ্য ছিল ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উপকূলীয় রাডার স্থাপনা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা এবং অস্ত্রসজ্জিত ছোট নৌযান।
সেন্টকমের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এসব অভিযানে যুদ্ধবিমান, নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ এবং আকাশ ও সমুদ্রপথে পরিচালিত মানববিহীন ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুলভাবে আঘাত হানতে উচ্চ-নির্ভুলতাসম্পন্ন অস্ত্র ব্যবহারের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
মার্কিন বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে ইরানের হামলার সক্ষমতা কমিয়ে আনাই ছিল এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে তারা জানিয়েছে, এই ধাপের সামরিক অভিযান শেষ হয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের হরমোজগান প্রদেশের বন্দর আব্বাস এলাকায় অন্তত দুটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
পরে ইরনা আরও জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে একজন নিহত এবং আরও চারজন আহত হয়েছেন। খুজেস্তান প্রদেশের নিরাপত্তা ও আইন প্রয়োগবিষয়ক ডেপুটি গভর্নর ভ্যালিওল্লাহ হায়াতির বরাত দিয়ে সংস্থাটি এই তথ্য প্রকাশ করে।
হরমুজ প্রণালিতে ইরানের অনুমোদিত নৌপথ ব্যবহারকারী জাহাজে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপ আরও তীব্র হয়েছে। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতা কার্যকর থাকবে কি না, তা নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
গত মাসে হওয়া ওই সমঝোতার লক্ষ্য ছিল হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত নিরসনের পথ তৈরি করা। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি কার্যত শেষ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন।
তবে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কূটনৈতিক যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। মধ্যস্থতাকারীরা এখনও উত্তেজনা কমাতে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
১২৬ বার পড়া হয়েছে