চাঁপাইনবাবগঞ্জে আম ঘিরে ২ হাজার কোটি টাকার মহাবাণিজ্যের হাতছানি
সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬ ৫:৪০ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
দেশের আমের রাজধানীখ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জে চলতি মৌসুমে আম ঘিরে ২ হাজার কোটি টাকার বেশি মহাবাণিজ্যের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও বাম্পার ফলনে জেলার কানসাটসহ অন্যান্য বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ভালো দাম ও পর্যাপ্ত চাহিদার কারণে জেলার আমচাষি ও ব্যবসায়ীদের মুখে এখন হাসির ঝিলিক।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে চাঁপাইনবাবগঞ্জের পাঁচটি উপজেলায় ৩৭ হাজার ৪৮৭ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার বাগানগুলো থেকে প্রায় ৪ লাখ ৫৮ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ।
সরেজমিনে জেলার বৃহত্তম কানসাট আম বাজার ঘুরে দেখা যায়, ভোর থেকেই জমজমাট বেচাকেনায় মুখরিত পুরো এলাকা। এছাড়া রহনপুর, ভোলাহাট ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর পুরাতন আম বাজারেও প্রতিদিন হাজার হাজার মণ বিভিন্ন জাতের আম কেনাবেচা চলছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাইকাররা এসে ট্রাকভর্তি করে আম নিয়ে যাচ্ছেন রাজধানী ঢাকাসহ দেশের নানা প্রান্তে।
স্থানীয় বাজারে বর্তমানে বিভিন্ন জাতের আমের দাম বেশ সন্তোষজনক। আড়ৎদারদের দেওয়া তথ্যমতে, প্রতি মণ ফজলি আম ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা, আম্রপালি ৪ হাজার থেকে ৪ হাজার ২০০ টাকা এবং বারি-৪ জাতের আম ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ভালো দাম পাওয়ায় চাষিরা খুশি হলেও বাজারের এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা নিয়ে আশাবাদী সবাই।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মুনজের আলম মানিক জানান, দেশের মোট আম উৎপাদনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই আসে এই জেলা থেকে। তবে তিনি যোগ করেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে যদি আমভিত্তিক প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প বা হিমাগার গড়ে তোলা যায়, তবে এ খাতের অর্থনৈতিক গুরুত্ব আরও বহু গুণ বৃদ্ধি পাবে এবং হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্যান) মো. বুলবুল আহম্মেদ জানান, মৌসুমের শুরু থেকেই ফলন ভালো হয়েছে এবং চাষিরা বাজারে উপযুক্ত দাম পাচ্ছেন। বর্তমান বাজার পরিস্থিতি ও বিক্রির গতি সচল থাকলে এ বছর এই জেলার আম বাণিজ্য নিশ্চিতভাবেই ২ হাজার কোটি টাকার মাইলফলক স্পর্শ করবে।
১২০ বার পড়া হয়েছে