টাইব্রেকারের রোমাঞ্চে কলম্বিয়াকে বিদায়, কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ড
বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬ ৬:৩২ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
নির্ধারিত ৯০ মিনিট ও অতিরিক্ত ৩০ মিনিটেও কোনো দল গোলের দেখা পায়নি। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারের স্নায়ুচাপের লড়াইয়ে কলম্বিয়াকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে ৭২ বছর পর নারী বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে সুইজারল্যান্ড। শেষ আটে তাদের প্রতিপক্ষ বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।
শুরুর বাঁশি থেকে শেষ পর্যন্ত দুই দলই সতর্ক ফুটবল খেলেছে। ম্যাচজুড়ে বল দখলে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও সুযোগ তৈরির দিক থেকে এগিয়ে ছিল কলম্বিয়া। তবে আক্রমণে ধার না থাকায় নির্ধারিত সময়ের ৯০ মিনিটে কোনো দলই জালের দেখা পায়নি। অতিরিক্ত ৩০ মিনিটেও একই চিত্র দেখা যায়।
ভ্যানকুভারে অনুষ্ঠিত ম্যাচে গোলশূন্য সমতার পর ফল নির্ধারণে গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে শেষ পর্যন্ত ৪-৩ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় সুইজারল্যান্ড। ১৯৫৪ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠল সুইসরা।
টাইব্রেকারের শুরুতে দুই দলই প্রথম শট থেকে গোল করে। তবে দ্বিতীয় শটে কলম্বিয়ার দাভিনসন সানচেস লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায় সুইজারল্যান্ড। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সফল হন জিকি আমদুনি।
এরপর তৃতীয় শটে কলম্বিয়া গোল করলেও সুইজারল্যান্ডের মানুয়েল আকাঞ্জি বল উড়িয়ে মারায় আবারও সমতা ফিরে আসে। কিন্তু চতুর্থ শটে কুচো এর্নান্দেসের প্রচেষ্টা দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক গ্রেগর কোবেল। অন্যদিকে সুইজারল্যান্ডের সেদ্রিক সফল হলে ব্যবধান আবারও বাড়ে।
কলম্বিয়ার হয়ে পরের শটে লুইস দিয়াস গোল করে আশা জাগালেও শেষ শটে রুবেন ভার্গাস কোনো ভুল করেননি। তার সফল শটেই নিশ্চিত হয় সুইজারল্যান্ডের ঐতিহাসিক জয়।
ম্যাচের শুরুতে দুই গোলরক্ষকের তেমন কোনো কাজ ছিল না। প্রথম উল্লেখযোগ্য সুযোগ আসে ২১তম মিনিটে, যখন গুস্তাভো পুয়ের্তার দূরপাল্লার শট দারুণ দক্ষতায় রুখে দেন সুইস গোলরক্ষক।
৩১তম মিনিটে সুইজারল্যান্ডও ভালো সুযোগ তৈরি করে। ফাবিয়ান রিয়েদেরের শট ঠেকিয়ে দেন কলম্বিয়ার গোলরক্ষক কামিলো ভার্গাস। কয়েক মিনিট পর দান এনদোয়ের চেষ্টাও ব্যর্থ করে দেন তিনি।
দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলই আক্রমণ চালালেও গোলের সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি। ৬৩তম মিনিটে লুইস সুয়ারেস একেবারে ফাঁকা অবস্থায় সুযোগ পেয়েও লক্ষ্যভ্রষ্ট হন।
অতিরিক্ত সময়ে ৯৯তম মিনিটে কর্নার থেকে লুকুমির হেড ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। পাঁচ মিনিট পর লুইস দিয়াসও নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করেন। ম্যাচের শেষ দিকে হামিন্তন কাম্পাস ওয়ান-অন-ওয়ান পরিস্থিতিতেও গোল করতে ব্যর্থ হলে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণের দায়িত্ব চলে যায় টাইব্রেকারের ওপর।
সেখানে স্নায়ুচাপের পরীক্ষায় সফল হয় সুইজারল্যান্ড। গোলরক্ষক গ্রেগর কোবেলের গুরুত্বপূর্ণ সেভ এবং সতীর্থদের নিখুঁত শটে ৭২ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটে। এবার সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ হবে টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত অপরাজিত বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।
১৩৭ বার পড়া হয়েছে