কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গড়ার প্রত্যয়, সরকারের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬ ৯:৩৫ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
দেশকে একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, কৃষি, মৎস্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, সামাজিক সুরক্ষা ও জ্বালানি খাতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের মূল লক্ষ্য মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
রোববার কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার মির্জাপুর চেয়ারম্যানবাড়ি ঘাট এলাকায় আয়োজিত এক জনসভায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এর আগে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ‘জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬’ উপলক্ষে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন তিনি। পরে পোনা বিতরণ কার্যক্রমেও অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী।
জনসভায় তারেক রহমান বলেন, নদীতে অবমুক্ত করা মাছের পোনা বড় হয়ে ডিম দেবে এবং বিভিন্ন খাল-বিলে ছড়িয়ে পড়বে। এর মাধ্যমে মৎস্যসম্পদ বাড়ার পাশাপাশি দেশের মানুষ অর্থনৈতিকভাবে উপকৃত হবে।
মৎস্যসম্পদের উন্নয়নকে কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির রাজনীতির লক্ষ্য এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা, যার সুফল দেশের মানুষ, বিশেষ করে গ্রামের মানুষ পাবেন।
নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, সরকার গঠনের পর সারা দেশে খাল খননের কাজ শুরু হয়েছে। এতে কৃষকেরা উপকৃত হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকার মানুষের পানির সুবিধা বাড়বে।
খনন করা খালের পানির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। পর্যায়ক্রমে দেশের বড় নদী ও খালগুলোতে মাছ চাষের ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এতে মৎস্য উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি হবে।
কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের পরিকল্পনায় নারী শিক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দায়িত্বে থাকাকালে নারীদের দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা বিনা মূল্যে করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। বর্তমান সরকার নারীদের অনার্স পর্যন্ত বিনা মূল্যে শিক্ষা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যয় সরকার বহন করবে বলে জানান তিনি।
শিক্ষার্থীদের মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ভবিষ্যতে তরুণ প্রজন্মকেই দেশের দায়িত্ব নিতে হবে। ভালো ফলাফল করা শিক্ষার্থীদের জন্য উপবৃত্তির ব্যবস্থার কথাও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের গ্রামগঞ্জে থাকা প্রায় এক কোটি ২০ লাখ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর কাছে প্রতিবছর নতুন বইয়ের পাশাপাশি স্কুল ড্রেস ও স্কুল ব্যাগ পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পর্যায়ক্রমে প্রত্যেক পরিবারের প্রধান নারী বা মায়ের হাতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পৌঁছে দেওয়া হবে। কিশোরগঞ্জ জেলায় এদিন এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
কৃষকদের জন্য ‘কৃষি কার্ড’ চালুর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, এর মাধ্যমে কৃষকদের বছরে আর্থিক সহযোগিতা দেওয়ার পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে সার, বীজ ও কীটনাশক সরবরাহ করা হবে। উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং কৃষি খাতকে আরও শক্তিশালী করাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য।
সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবনমান উন্নয়নের পরিকল্পনার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী। আলেম, ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খতিবদের জীবনমান উন্নয়ন এবং তাঁদের স্বাবলম্বী করার জন্য সরকারের উদ্যোগের কথা জানান তিনি।
তরুণদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, তরুণেরা যাতে খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে নিতে পারেন এবং পেশাদার ক্রীড়াবিদ হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে পারেন, সে জন্য নতুন করে ক্রীড়া কার্যক্রমের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
সরকারের উন্নয়ন ও কল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি যতবার দেশ পরিচালনার সুযোগ পেয়েছে, ততবারই কিছু রাজনৈতিক দল বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করেছে।
সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কেউ বাধা সৃষ্টি করলে, রাজপথে বিশৃঙ্খলা করলে কিংবা মিথ্যা তথ্য দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে জনগণকে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
বিগত সময়ে দেশের অর্থ-সম্পদ লুট করে বিদেশে পাচারের অভিযোগ তুলে তারেক রহমান বলেন, এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে। এখন সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে রাষ্ট্র মেরামত ও দেশ পুনর্গঠনের কাজে এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি বলেন, দেশের মালিক জনগণ। ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতা স্বৈরাচারকে বিতাড়িত করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে এক দিনে দেশের সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অর্থনীতি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন খাত পুনর্গঠনে সময় প্রয়োজন হবে।
দেশের বর্তমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দাবি, অতীতে অপরিকল্পিতভাবে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে বর্তমান সংকট তৈরি হয়েছে।
তারেক রহমান জানান, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে সরকার কাজ করছে। আগামী ২৭ আগস্ট জাতীয় সংসদে আগামী ১০ বছরের জন্য বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানের পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হবে বলেও জানান তিনি।
সংকট মোকাবিলায় সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংকটকে কেন্দ্র করে রাজপথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষই ক্ষতিগ্রস্ত হন।
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির প্রতি জনগণের আস্থার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই আস্থা ধরে রাখতে হবে। বিএনপি জনগণের স্বার্থের বাইরে কোনো কাজ করবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
দেশে শান্তি, শৃঙ্খলা, আইনের শাসন, কর্মসংস্থান ও সুশিক্ষা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে জনগণের সহযোগিতা কামনা করে দেশের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ড ও বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
পাকুন্দিয়ার কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী কটিয়াদি কার্ড হ্যাচারি কমপ্লেক্স পরিদর্শনে যাওয়ার কথা রয়েছে।
১১০ বার পড়া হয়েছে