কুষ্টিয়ায় স্বাস্থ্যকর্মীদের মানববন্ধন, হামলার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি
বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬ ৪:৩৯ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের দুই মেডিকেল টেকনোলজিস্টের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন চিকিৎসক, নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্টসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তারা কর্মস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান। এ সময় হাসপাতালের কিছু সেবা সাময়িকভাবে ব্যাহত হওয়ায় রোগীদের ভোগান্তিও দেখা দেয়।
কুষ্টিয়ার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের দুই মেডিকেল টেকনোলজিস্টের ওপর হামলার প্রতিবাদে মঙ্গলবার (৩০ জুন) বেলা ১১টার দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। পরে মেডিকেল ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে অংশ নেন জেলার চিকিৎসক, নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট এবং স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সেখানে উপস্থিত ছিলেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেন, জেনারেল হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. আব্দুল মান্নান, সহকারী পরিচালক ডা. মো. নাসির উদ্দিন, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সভাপতি ডা. ফজলুল হক, আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. ইকবাল হাসানসহ অন্যরা।
প্রতিবাদ কর্মসূচির কারণে হাসপাতালের বহির্বিভাগ ও অন্তর্বিভাগের স্বাভাবিক সেবা কিছু সময়ের জন্য ব্যাহত হয়। এতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা ভোগান্তির মুখে পড়েন। কয়েকজন রোগী বলেন, হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন। তবে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত না করে দাবি আদায়ের দিকেও গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
হামলার শিকার মেডিকেল টেকনোলজিস্ট সৌরভ হোসেন অভিযোগ করেন, সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে ডিউটি শেষে সহকর্মী আরিফুলকে নিয়ে মোটরসাইকেলে ভেড়ামারার উদ্দেশ্যে রওনা হলে হাসপাতাল সড়কের প্রধান ডাকঘরের সামনে তিনটি মোটরসাইকেলে আসা ৭–৮ জন হেলমেটধারী ব্যক্তি তাদের পথরোধ করেন। পরে রডসহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাদের মারধর করা হয়। প্রাণ বাঁচাতে দ্রুত ঘটনাস্থল ছেড়ে হাসপাতালে ফিরে চিকিৎসা নেন তারা।
এ ঘটনায় সৌরভ হোসেন কুষ্টিয়া মডেল থানায় অজ্ঞাত ৭–৮ জনকে আসামি করে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তিনি হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
জেনারেল হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. আব্দুল মান্নান বলেন, হাসপাতালের কাছেই যদি স্বাস্থ্যকর্মীরা হামলার শিকার হন, তাহলে কর্মস্থলের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পার হলেও কাউকে গ্রেপ্তার না করায় স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। এ দাবির সঙ্গে তিনি সংহতি প্রকাশ করেছেন।
ড্যাবের জেলা সভাপতি ডা. ফজলুল হক বলেন, স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত না হওয়ায় বারবার আন্দোলনে নামতে হচ্ছে। এতে স্বাস্থ্যসেবাও ব্যাহত হচ্ছে।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদ বিন-হাসান বলেন, ঘটনার পর চিকিৎসকদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে এবং দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
১২৪ বার পড়া হয়েছে