সর্বশেষ

সারাদেশ

তালতলীতে প্রকৌশলীর অডিও ভাইরাল: ‘বদলি হতে ৮–১০ লাখ টাকা দিতে হয়’

স্টাফ রিপোর্টার, বরগুনা
স্টাফ রিপোর্টার, বরগুনা

মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬ ৪:০৮ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
বরগুনার তালতলী উপজেলায় একটি সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগের মধ্যে উপজেলা প্রকৌশলীর একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ওই অডিওতে ঠিকাদারি কার্যক্রম, নির্মাণকাজের মান এবং বদলি-সংক্রান্ত মন্তব্য শোনা যায়। অডিওটি প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

বরগুনার তালতলী উপজেলার টিএনটি রোড থেকে নিউপাড়া সড়কের তুলাতলী-নিউপাড়া অংশের প্রায় ৪ কিলোমিটার নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উপজেলা প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেনের একটি কথোপকথনের অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

ভাইরাল হওয়া অডিওতে স্থানীয় সংবাদকর্মী সোহেল রানাকে সড়ক নির্মাণকাজের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করতে শোনা যায়। জবাবে উপজেলা প্রকৌশলী বলেন, সড়কটির মূল ঠিকাদার কাজটি অন্য একজনের কাছে হস্তান্তর করেছেন এবং বর্তমানে সাব-ঠিকাদারের মাধ্যমে কাজ পরিচালিত হচ্ছে।

কথোপকথনে প্রকৌশলী আরও বলেন, বর্ষাকালে মাটি ফেলার কারণে কিছু সমস্যা হয়েছে এবং শ্রমিকদের হাতে কাজ হওয়ায় কিছু ত্রুটি থাকতে পারে। তবে এসব কারণে পুরো প্রকৌশল অফিসকে দায়ী করা ঠিক হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

ঠিকাদারি প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, দরপত্রে সর্বনিম্ন দর দেওয়ার পর বিভিন্ন ব্যয় মেটাতে গিয়ে অনেক ঠিকাদার কাজ অন্যের কাছে বিক্রি করে দেন। ফলে পর্যায়ক্রমে লাভের চাপ তৈরি হয় এবং কিছু ক্ষেত্রে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের প্রবণতা দেখা দিতে পারে।

অডিওতে জনবল সংকটের কথাও উল্লেখ করেন উপজেলা প্রকৌশলী। তিনি বলেন, পর্যাপ্ত জনবল বা তদারকির ব্যবস্থা থাকলে নির্মাণকাজে অনিয়ম আরও কার্যকরভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব হতো।

কথোপকথনের শেষাংশে বদলি প্রসঙ্গে উপজেলা প্রকৌশলী বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওই উপজেলায় কর্মরত আছেন এবং ইচ্ছা করলেই বদলি হওয়া সহজ নয়। তিনি দাবি করেন, বদলি হতে চাইলে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় করতে হতে পারে।

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, তুলাতলী-নিউপাড়া সড়কের নির্মাণকাজে নিম্নমানের ইট, কাঁদামাটি ও বালু ব্যবহার করা হয়েছে। তাদের দাবি, সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের কিছু অংশ নরম হয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।

স্থানীয় সংবাদকর্মী সোহেল রানা বলেন, এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নির্মাণকাজের বিভিন্ন দিক পর্যবেক্ষণ করেন এবং পরে তথ্য সংগ্রহের জন্য উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে যান। সেখানকার কথোপকথনের একটি অংশ তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন।

তবে উপজেলা প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সংবাদকর্মী তার অজান্তেই মোবাইলে কথোপকথন রেকর্ড করেন। তিনি দাবি করেন, তথ্য জানতে আসা সংবাদকর্মীর সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করেছিলেন, যা পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো তদন্ত বা ব্যবস্থা নেওয়ার তথ্য এখন পর্যন্ত জানা যায়নি।

১১৪ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন