সদরপুরে নিখোঁজের তিন দিন পর কাশবনে মিলল মাদ্রাসাছাত্রের মরদেহ, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ জন আটক
মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬ ৪:২০ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় নিখোঁজের তিন দিন পর শাহাদাত হোসেন (৮) নামে এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় স্থানীয়দের সন্দেহের ভিত্তিতে পাঁচজনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে কাজ চলছে।
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার চরনাছিরপুর ইউনিয়নের আড়িয়াল খাঁ নদের তীরবর্তী একটি কাশবন থেকে সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে শাহাদাত হোসেন নামে আট বছর বয়সী এক শিশুর গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শাহাদাত উপজেলার চন্দ্রপাড়া পুরাতন ঘাট এলাকার আবদুর রশিদের ছেলে এবং হানিফ হাজীর ডাঙ্গী কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত শুক্রবার (২৬ জুন) চন্দ্রপাড়া দরবারসংলগ্ন ট্রলারঘাট এলাকায় মহররম উপলক্ষে আয়োজিত একটি মেলায় ঘুরতে গিয়ে শাহাদাত নিখোঁজ হয়। এরপর পরিবারের সদস্যরা মাইকিংসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি চালিয়েও তার কোনো সন্ধান পাননি।
সোমবার দুপুরে মেলায় থাকা একটি দোলনার কর্মচারী ইয়াছিন (১৮) নিহত শিশুর বোন রওশনারাকে ফোন করে মরদেহের অবস্থান সম্পর্কে জানায় বলে পরিবারের দাবি। পরে তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে কাশবনের মধ্যে শিশুটির মরদেহ দেখতে পান এবং পুলিশকে খবর দেন। ঘটনার পর থেকে ওই কর্মচারী পলাতক রয়েছেন।
এ ঘটনার পর স্থানীয়রা মেলার দোলনার মালিকসহ কয়েকজন কর্মচারীকে আটক করে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। আটক ব্যক্তিরা হলেন—দেলোয়ার বেপারী, রিয়াজ, তামিম মোল্যা, জিহাদ মাহমুদ ও শাকিল ইসলাম।
খবর পেয়ে ভাঙ্গা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজাউন দীপু এবং সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল আল মামুন শাহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
ওসি মো. আব্দুল আল মামুন শাহ জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশ কাজ করছে।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে ঘটনার প্রকৃত কারণ বা কারও সম্পৃক্ততা সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।
১১৭ বার পড়া হয়েছে