ব্যাংক টিআইএন বাধ্যতামূলক না রাখা ও করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর সুপারিশ
সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬ ১০:৩৩ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যক্তিগত করমুক্ত আয়সীমা আরও বাড়ানো, ব্যাংক হিসাব খুলতে টিআইএন সনদের বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়া এবং বিতর্কিত ‘কালো টাকা সাদা করার’ বিধান প্রত্যাহারের প্রস্তাব দিয়েছেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিভিন্ন শিল্প খাতে শুল্ক ও ভ্যাট কমানোরও সুপারিশ করেছেন তিনি।
জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনের আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অর্থমন্ত্রী ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর কাছে একাধিক সংশোধনী প্রস্তাব তুলে ধরেন। সোমবার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে প্রথমে বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান বক্তব্য দেন। পরে সংসদ নেতা হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী।
বক্তব্যের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাধারণত বাজেট নিয়ে বিভিন্ন দাবি বিরোধী দলের পক্ষ থেকেই আসে। তবে তিনি এবার করদাতাদের স্বস্তি দিতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের প্রস্তাব রাখতে চান।
প্রস্তাবিত বাজেটে ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ করবর্ষে করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, ২০২৮-২৯ ও ২০২৯-৩০ করবর্ষে ৪ লাখ টাকা এবং ২০৩০-৩১ করবর্ষে সাড়ে ৪ লাখ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী এই সীমা আরও বাড়িয়ে যথাক্রমে ৪ লাখ, সাড়ে ৪ লাখ এবং ৫ লাখ টাকা করার সুপারিশ করেন।
ব্যাংক হিসাব খোলা, বণ্টননামা দলিল নিবন্ধন এবং সম্পত্তি নামজারির ক্ষেত্রে টিআইএন সনদ বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তাই তিনি এসব ক্ষেত্রে টিআইএন বাধ্যতামূলক রাখার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য অর্থমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান।
স্বপ্রণোদিত বিনিয়োগ প্রদর্শনসংক্রান্ত বিধান নিয়ে জনমনে প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জমি প্রকৃত মূল্যে নিবন্ধন না হওয়ায় করদাতাদের হয়রানি কমানোর উদ্দেশ্যে এই ব্যবস্থা আনা হয়েছিল। তবে এটি ‘কালো টাকা সাদা করার’ সুযোগ হিসেবে সমালোচিত হওয়ায় তিনি প্রস্তাবিত বিধানটি প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর বর্তমান ১০ শতাংশ কর কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী। তবে এর বিনিময়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়ানো, ভাষা শিক্ষা ও ল্যাঙ্গুয়েজ ল্যাব স্থাপন এবং দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বিনা বেতনে পড়াশোনার সুযোগ বাড়ানোর শর্ত আরোপের সুপারিশ করেন।
পার্বত্য ও সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য বিদ্যমান কর-সুবিধা আরও সম্প্রসারণের প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, শুধু বেতন বা নির্দিষ্ট আয়ের ক্ষেত্রেই নয়, ব্যবসা, কৃষি এবং অন্যান্য উৎস থেকে অর্জিত আয়ও করমুক্ত সুবিধার আওতায় আনা উচিত।
চিংড়িশিল্পের উন্নয়ন ও রপ্তানি বাড়াতে ফিড অ্যাডিটিভ, প্রোবায়োটিকস, ভিটামিন, মিনারেলস এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি আমদানির ওপর আরোপিত শুল্ক ও ভ্যাট প্রত্যাহারের প্রস্তাব করেন প্রধানমন্ত্রী।
এ ছাড়া ওষুধ ও শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত মধু, পিইটি রেজিন, পিভিসি, কোল্ড-রোলড শিট, কপারসহ বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামালের ওপর শুল্ক কমানো বা প্রত্যাহারের সুপারিশ করেন। অপ্রক্রিয়াজাত কাজুবাদাম আমদানিতে কাস্টম শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাবও দেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম, সার্চ ইঞ্জিন ও অনলাইন মার্কেটপ্লেসে বিজ্ঞাপনের ওপর বিদ্যমান ১৫ শতাংশ ভ্যাট কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, এতে ব্যবসায়ীরা আনুষ্ঠানিকভাবে অর্থ পরিশোধে উৎসাহিত হবেন এবং সরকারের রাজস্বও বাড়বে।
প্রধানমন্ত্রী বিটিআরসির সঙ্গে টেলিকম কোম্পানির রেভিনিউ শেয়ারিংয়ের ওপর প্রযোজ্য ১৫ শতাংশ ভ্যাট সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের সুপারিশ করেন। পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে ডাবল কেবিন পিকআপ ও মাইক্রোবাস উৎপাদনে ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেন।
এ ছাড়া স্বর্ণ, প্লাটিনাম, হীরা ও রূপার অলঙ্কারের ওপর বিদ্যমান করহার পুনর্নির্ধারণেরও আহ্বান জানান তিনি।
বক্তব্যের শেষে বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান সাইকেলের ওপর সব ধরনের শুল্ক প্রত্যাহারের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে যতটুকু সম্ভব বিবেচনার জন্য তিনি অর্থমন্ত্রীকে অনুরোধ করবেন।
১১৬ বার পড়া হয়েছে