ইথানকে গুলির ঘটনায় পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, আরও তিনজন গ্রেপ্তার
মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬ ৪:১৪ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
কুমিল্লা নগরীর কাঁটাবিল এলাকায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ স্কুলছাত্র ইথান আহমেদ প্রেমের ঘটনায় আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মামলায় এ নিয়ে মোট চারজন গ্রেপ্তার হয়েছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কুমিল্লা নগরীর কাঁটাবিল এলাকায় সংঘর্ষের সময় স্কুলছাত্র ইথান আহমেদ প্রেম গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার দুপুরে কুমিল্লা কোতোয়ালি থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার এ তথ্য জানান।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—আসিফ (২৬), আশিক (৩৫) ও ইমন (১৯)। তাঁদের সবার বাড়ি কাঁটাবিল এলাকায়। পুলিশ জানায়, ইথানের বাবা ইউনুস মিয়ার দায়ের করা মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে গতকাল ও আজ তাঁদের আটক করা হয়। পরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া নেওয়া হবে।
পুলিশ জানায়, এর আগে একই মামলায় শ্রাবণ নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর কাছ থেকে একটি পিস্তল ও ছয় রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শ্রাবণ একটি পক্ষের সদস্য এবং নতুন করে গ্রেপ্তার হওয়া তিনজন অপর পক্ষের সদস্য। এই দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময়ই ইথান গুলিবিদ্ধ হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ২৪ জুন রাতে কাঁটাবিল এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও মাদক-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এর প্রতিবাদে পরদিন সকালে কাঁটাবিল রফিক উদ্দিন মেমোরিয়াল উচ্চবিদ্যালয় এবং কাঁটাবিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে স্থানীয় বাসিন্দারা মানববন্ধন করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মানববন্ধন চলাকালে একদল অস্ত্রধারী দুর্বৃত্ত সেখানে হামলা চালিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। এতে পথচারী ও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ইথান আহমেদ প্রেমসহ অন্তত সাতজন আহত হন।
বর্তমানে ইথান আহমেদ প্রেম ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকদের মতে, তাঁর ফুসফুসে গুলি লেগেছে। টিফিনের বিরতিতে বাসায় ফেরার পথে তিনি গুলিবিদ্ধ হন। ইথানের বাবা ইউনুস মিয়া নগরীর একটি বিনোদনকেন্দ্রে কর্মরত।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
১১৭ বার পড়া হয়েছে