সিলেটে নৌকা চুরির অপবাদে যুবকের দুই চোখ উপড়ে দিল প্রভাবশালীরা
মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬ ১:০৭ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
সিলেটের গোয়াইনঘাটে একটি তুচ্ছ নৌকা চুরির অপবাদে খালেদ আহমদ নামে এক যুবকের দুটি চোখ উপড়ে নিয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি। বর্বরোচিত এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ভুক্তভোগী খালেদ আহমদ উপজেলার তোয়াকুল ইউনিয়নের লাকী গ্রামের সোনাই মিয়ার ছেলে। গত শনিবার দিবাগত রাতে শাহপুর গ্রামের মোস্তাক আহমদের বাড়ির পুকুর থেকে একটি ছোট নৌকা চুরি হওয়ার ঘটনা ঘটে। এই চুরির পেছনে খালেদের হাত রয়েছে বলে সন্দেহ করে মোস্তাক ও তার সহযোগীরা। পরদিন বিকেলে খালেদ তোয়াকুল বাজারে কেনাকাটা করতে এলে মোস্তাক আহমদের নেতৃত্বে একদল দুর্বৃত্ত তাকে চারপাশ থেকে ঘিরে ধরে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, অভিযুক্ত মোস্তাক আহমদ, পছাই মিয়া, সেলিম আহমদ, ফখরুল ইসলামসহ কয়েকজন সংঘবদ্ধ হয়ে খালেদকে বাজার থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। মোস্তাকের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে তার ওপর মধ্যযুগীয় কায়দায় অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে অত্যন্ত নৃশংসভাবে খালেদের দুটি চোখ উপড়ে ফেলা হয়।
আহত খালেদ তীব্র যন্ত্রণায় জ্ঞান হারিয়ে ফেললে, গভীর রাতে তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা। খবর পেয়ে খালেদের মা দ্রুত হাসপাতালে ছুটে আসেন এবং তাকে ভর্তি করান। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। তোয়াকুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ লোকমান উদ্দিন এবং স্থানীয় মেম্বার লোকমান আহমদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, পুলিশ ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে।
১১৯ বার পড়া হয়েছে