মানিকগঞ্জে তীব্র বিদ্যুৎ বিপর্যয়: ৬০ মেগাওয়াট ঘাটতিতে স্থবির গ্রামীণ জনপদ
মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬ ১২:০৯ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
মানিকগঞ্জ জেলায় গত এক সপ্তাহ ধরে চলা তীব্র লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা। দৈনিক গড়ে ৪০ থেকে ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতির কারণে বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় নেমে এসেছে চরম স্থবিরতা। শহর ও গ্রামের এই বৈষম্যমূলক বিদ্যুৎ সরবরাহ নীতি নিয়ে স্থানীয় গ্রাহকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
মানিকগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সূত্রে জানা গেছে, জেলায় গত এক সপ্তাহ ধরে বিদ্যুতের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম। গত ২২ জুন থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, জেলায় প্রতিদিন গড়ে ৪০ থেকে ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের বিপুল ঘাটতি রয়েছে। এই তীব্র ঘাটতির কারণে জেলা শহর বাদে প্রান্তিক ও গ্রামীণ জনপদগুলোতে দিনে-রাতে দীর্ঘ সময় ধরে লোডশেডিং চলছে।
বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ফলে গ্রামীণ জনপদে কেবল জনজীবনই অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেনি, বরং থমকে গেছে ক্ষুদ্র শিল্প ও কৃষি খাতের উৎপাদন। এছাড়া নিয়মিত লোডশেডিংয়ের কারণে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায়। মোমবাতি আর টর্চলাইটের আলোতে পড়াশোনা করতে বাধ্য হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। তীব্র গরমে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীরাও চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে জানিয়েছেন, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি শহর এলাকাকে সচল রাখতে গিয়ে গ্রামীণ জনপদগুলোকে চরম বৈষম্যের মুখে ঠেলে দিয়েছে। ভুক্তভোগীদের মতে, নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করার পরেও কেন শহর ও গ্রামের মাঝে এই কৃত্রিম বৈষম্য তৈরি করা হবে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিদ্যুৎ কর্মকর্তা জানান, ভিআইপি এলাকা এবং সরকারি জরুরি প্রতিষ্ঠানগুলো সচল রাখতে তাদের বাধ্য হয়ে গ্রামাঞ্চলে লোড রেশনিং করতে হচ্ছে। মানিকগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএম সুলতান নাসিমুল হক জানান, চাহিদার তুলনায় প্রায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ বিদ্যুৎ সরবরাহ কম থাকায় লোডশেডিং করতে হচ্ছে, বিশেষ করে রাতের বেলায় এ সমস্যা বেশি হচ্ছে।
১৩৮ বার পড়া হয়েছে