ভালুকায় তীব্র লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন, ক্ষতির মুখে ক্ষুদ্র শিল্প
রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬ ৪:০৩ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ময়মনসিংহের ভালুকায় স্মরণকালের ভয়াবহ লোডশেডিং ও লো ভোল্টেজের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন লাখ লাখ মানুষ। ২৪ ঘণ্টার অধিকাংশ সময়ই বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস ওঠার পাশাপাশি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে স্থানীয় ক্ষুদ্র শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদন। চাহিদার তুলনায় অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ সরবরাহের কারণে এই নজিরবিহীন সংকটের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ভালুকা পৌর সদরসহ উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলগুলোতে বিদ্যুতের বিপর্যয় চরম আকার ধারণ করেছে। একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আর দেখা মেলে না। প্রচণ্ড গরমে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা এই তীব্র গরমে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
বিদ্যুতের এই নজিরবিহীন লোডশেডিংয়ের কারণে স্থানীয় ওয়ার্কশপ, রাইস মিল, করাতকল এবং বেকারি সহ নানা ধরনের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকারখানা মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। নিয়মিত বিদ্যুৎ না থাকায় এসব কারখানায় উৎপাদন প্রায় বন্ধের উপক্রম হয়েছে, যার ফলে বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা করছেন স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।
ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এই সমিতিভুক্ত এলাকায় মোট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে ২৯০ মেগাওয়াট। কিন্তু চাহিদার বিপরীতে বর্তমানে জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ২১০ থেকে ২১৫ মেগাওয়াট। এর মধ্যে ভালুকা ও গফরগাঁও উপজেলায় ১৬০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে বিদ্যুৎ মিলছে মাত্র ৬০ থেকে ৬৫ মেগাওয়াট, যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল।
অন্যদিকে, পিডিবি ভালুকা কার্যালয়ের অধীনে প্রায় ৩৮ হাজার গ্রাহক রয়েছেন। এখানে দৈনিক ২০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ মিলছে মাত্র ১৩ মেগাওয়াট। ফলে প্রতিদিন প্রায় ৭ মেগাওয়াটেরও বেশি বিদ্যুৎ ঘাটতি থাকছে। এ বিষয়ে পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল মজিদ জানান, চাহিদার তুলনায় অর্ধেক বিদ্যুৎ পাওয়ায় বাধ্য হয়েই তাদের পালাক্রমে লোডশেডিংয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দিতে হচ্ছে।
১২৫ বার পড়া হয়েছে