সর্বশেষ

সারাদেশ

মধুখালীতে ডিবি হেফাজতে মৃত্যুর আগে প্রান্তকে আটকের ভিডিও ভাইরাল, পরিবারের নির্যাতনের অভিযোগ

আবিদ জামান, ফরিদপুর
আবিদ জামান, ফরিদপুর

রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬ ৫:১৩ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হেফাজতে মারা যাওয়া নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মী মির্জা ইশতিয়াক আহমেদ প্রান্তকে আটকের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিও প্রকাশের পর ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এদিকে প্রান্তের পরিবার হেফাজতে নির্যাতন ও অর্থ দাবির অভিযোগ তুললেও পুলিশ বলছে, অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার গোন্দারদিয়া এলাকার বাসিন্দা মির্জা ইশতিয়াক আহমেদ প্রান্ত (২৮) ফরিদপুর আইন কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। স্থানীয়ভাবে তিনি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ২ মিনিট ৩৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, গত ২১ জুন বিকেলে নিজ বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে থাকা প্রান্তকে কয়েকজন ব্যক্তি ঘিরে ধরেন। স্থানীয়দের দাবি, তাঁরা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্য ছিলেন।

ভিডিওতে দেখা যায়, প্রথমে কয়েকজন ব্যক্তি প্রান্তের সঙ্গে কথা বলেন এবং পরে তাঁর দেহ তল্লাশি করেন। একপর্যায়ে তাঁকে দুই হাত দিয়ে কান ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। ভিডিওতে একজনকে তাঁকে থাপ্পড় মারতে দেখা গেলেও অন্য একজনকে তাঁকে মারধর না করার কথা বলতে শোনা যায়।

ভিডিওর একপর্যায়ে ছাই রঙের চেক শার্ট পরা এক ব্যক্তিকে মোবাইল ফোনে ‘লাঠি নিয়ে মরিচবাজার এলাকায় দ্রুত আসেন’ বলতে শোনা যায়। পরে একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাস ঘটনাস্থলে আসে এবং সেখান থেকে নারী সদস্যসহ আরও কয়েকজন অভিযানে অংশ নেন।

ভিডিওর শেষ দিকে এক ব্যক্তিকে একটি বস্তু দেখিয়ে ‘এই যে এক টোপলা’ বলতে শোনা যায়। তবে ভিডিওতে দেখা যায়, বস্তুটি প্রান্তকে তল্লাশি করার স্থান থেকে কিছুটা দূরে ছিল।

এ ঘটনায় প্রান্তের মা খাদিজা আক্তার অভিযোগ করেন, ছেলেকে আটকের পর ডিবি সদস্যরা তাঁদের বাড়িতে গিয়ে তল্লাশি চালান। তাঁর দাবি, পরে এক আত্মীয়ের মাধ্যমে ছেলেকে ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে প্রথমে ৬৫ হাজার টাকা এবং পরে এক লাখ টাকা দাবি করা হয়েছিল।

খাদিজা আক্তারের ভাষ্য, পরদিন সকালে তিনি টাকা নিয়ে ফরিদপুরে গেলে জানতে পারেন, তাঁর ছেলে হাসপাতালে ভর্তি। পরে হাসপাতালে গিয়ে তিনি ছেলের মরদেহ দেখতে পান। তাঁর অভিযোগ, জীবিত অবস্থায় ছেলেকে নিয়ে যাওয়া হলেও পরে মরদেহ ফেরত দেওয়া হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম এর আগে বলেন, মাদকবিরোধী অভিযানে প্রান্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। হেফাজতে থাকা অবস্থায় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতাল এবং পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

পুলিশ সুপারের দাবি, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তাঁর শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি এবং পুলিশ হেফাজতে কোনো ধরনের শারীরিক নির্যাতন করা হয়নি বলেও তিনি দাবি করেন।

এ ঘটনায় ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে ভিডিওটির সত্যতা এবং এতে দেখা ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক তদন্তের কোনো ফলাফল এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

১২০ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন