নরসিংদীতে একই পরিবারের ৬ প্রতিবন্ধী সদস্য পেলেন স্বপ্নের নতুন ঘর
রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬ ২:৪৬ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
নরসিংদীর রায়পুরায় একই পরিবারের ছয়জন প্রতিবন্ধী সদস্যের দীর্ঘদিনের কষ্ট ও জরাজীর্ণ ঘরে মানবেতর জীবনের অবসান ঘটেছে। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে নির্মিত একটি নতুন ও নিরাপদ বাড়ি আনুষ্ঠানিকভাবে এই অসহায় পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মানবিক এই উদ্যোগের ফলে পরিবারটির মুখে ফুটেছে আনন্দের হাসি এবং নিশ্চিত হয়েছে একটি নিরাপদ আশ্রয়।
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের পূবেরচর গ্রামের বাসিন্দা ৭০ বছর বয়সী দৃষ্টি প্রতিবন্ধী বৃদ্ধা হারেছা বেগম। স্বামী ফজর আলীর মৃত্যুর পর বিগত দুই দশক ধরে চরম আর্থিক অনটনে দিন কাটছিল তাঁর। তাঁর সাথে থাকা মেয়ে সুরাইয়া বেগম (৪৫), জামাতা মরম আলী (৫৬) এবং তিন নাতি-নাতনিসহ পরিবারের মোট ছয়জন সদস্যই বিভিন্ন শারীরিক ও দৃষ্টি প্রতিবন্ধকতার শিকার।
ভাঙাচোরা একটি টিনের ঘরে ঝড়-বৃষ্টির সাথে যুদ্ধ করে অতি কষ্টে দিন পার করছিলেন তারা। এই অসহায় পরিবারের দুঃখকষ্ট দূর করতে এগিয়ে আসে 'রায়পুরা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবী ফোরাম'। বিভিন্ন হৃদয়বান ও বৃত্তবান মানুষের সহযোগিতায় লাখ টাকারও বেশি ব্যয়ে তাদের জন্য একটি আধুনিক ও নিরাপদ ঘর নির্মাণ করা হয়।
সম্প্রতি এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নবনির্মিত এই ঘরটি আনুষ্ঠানিকভাবে ভুক্তভোগী পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। রায়পুরা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবী ফোরামের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম সালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদ রানা।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেড এইচ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. জসিম উদ্দিন, বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক আসাদুল হক এবং উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা খলিলুর রহমান সরকার প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত সুন্দরভাবে সঞ্চালনা করেন সংগঠনের অর্থবিষয়ক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম মাহবুব।
নতুন ঘর পেয়ে আবেগাপ্লুত হারেছা বেগম বলেন, চোখে দেখতে পাই না বলে ঝড়-বৃষ্টির রাতে ভাঙা ঘরে চরম আতঙ্কে থাকতে হতো। এখন এই নতুন ঘরে শান্তিতে ঘুমাতে পারব। যারা আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, সৃষ্টিকর্তা তাদের মঙ্গল করুন।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা খলিলুর রহমান সরকার জানান, এই প্রতিবন্ধী পরিবারের স্থায়ী পুনর্বাসনের জন্য সমাজসেবা বিভাগের পক্ষ থেকে একটি গাভী প্রদানসহ বিভিন্ন সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। ইউএনও মো. মাসুদ রানা স্বেচ্ছাসেবীদের এই মানবিক উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন।
১২১ বার পড়া হয়েছে