সর্বশেষ

স্বাস্থ্য

মাগুরা সদর হাসপাতালে সেবার সংকট: রোগী দেখতে এসে ভর্তি হচ্ছেন স্বজনও

রূপক আইচ, মাগুরা
রূপক আইচ, মাগুরা

রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬ ৪:১০ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে চিকিৎসাসেবার মান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। চিকিৎসক ও নার্সের সংকট, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, পর্যাপ্ত শয্যার অভাব, লিফট অচল এবং রোগী রেফারের প্রবণতার কারণে চরম দুর্ভোগে পড়ছেন রোগী ও তাদের স্বজনেরা। এমনকি রোগীর সেবাযত্ন করতে এসে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের নারী ওয়ার্ডে পাশাপাশি দুটি শয্যায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন আঠারখাদা গ্রামের দুই বোন। বড় বোনের দেখাশোনা করতে এসে অসুস্থ হয়ে পড়েন ছোট বোনও। পরে তাকেও একই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে একই স্ট্যান্ড থেকে দুজনকে স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে। ঘটনাটি হাসপাতালের বিদ্যমান সংকটের প্রতীক হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন অনেকেই।

সরেজমিনে দেখা যায়, আধুনিক সাততলা ভবন ও বিভিন্ন চিকিৎসা সুবিধা থাকলেও জনবল সংকট, ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং অপর্যাপ্ত সেবার কারণে হাসপাতালটির কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। সামান্য জটিল রোগী এলেই তাদের ফরিদপুর বা ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে রেফার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন রোগীর স্বজনেরা।

শহরের কলেজপাড়া এলাকার বাসিন্দা ও কলেজশিক্ষক লতিফ জামিল জানান, বড় ভাই অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রাথমিক পরীক্ষা শেষে স্ট্রোকের আশঙ্কা জানিয়ে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, গুরুতর রোগীদের দ্রুত অন্যত্র পাঠিয়ে দেওয়ার প্রবণতায় রোগী ও স্বজনদের ভোগান্তি বাড়ছে।

হাসপাতালে ভর্তি এক রোগীর স্বজন সাইদুর রহমান বলেন, চার দিন ধরে হাসপাতালে অবস্থান করছেন। তার অভিযোগ, ওয়ার্ডে তেলাপোকা ও ছারপোকার উপদ্রব রয়েছে। বাথরুম ও বেসিনের অবস্থাও সন্তোষজনক নয়। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাব রোগী ও স্বজনদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

শহরের নান্দুয়ালী এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মমিনুর রহমান জানান, পর্যাপ্ত শয্যা না থাকায় তাকে মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। হাসপাতালের বাইরে থেকেও বেশির ভাগ ওষুধ কিনতে হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চিকিৎসক জানান, ২৫০ শয্যার বিপরীতে প্রতিদিন কয়েক গুণ বেশি রোগী ভর্তি থাকেন। চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য জনবলের ঘাটতির কারণে একজন চিকিৎসককে অনেক বেশি রোগীর দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এতে সেবার মান ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।

রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালের দুটি লিফটের বেশির ভাগ সময়ই একটি বা উভয়টি অচল থাকে। ফলে গুরুতর অসুস্থ রোগী, বয়স্ক ব্যক্তি ও গর্ভবতী নারীদের স্ট্রেচার বা হুইলচেয়ারে সিঁড়ি ব্যবহার করে ওঠানামা করতে হচ্ছে।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মহসিন উদ্দিন ফকির জনবল সংকটের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, সীমিত জনবল নিয়ে চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য কর্মীরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

স্বাস্থ্যসেবা নাগরিকের মৌলিক অধিকার। তবে মাগুরা সদর হাসপাতালের বর্তমান পরিস্থিতি সেই সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগ, পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ, পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত, লিফট সচল রাখা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে হাসপাতালের সেবার মান উন্নয়ন জরুরি।

১১৭ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
স্বাস্থ্য নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন