সর্বশেষ

সারাদেশ

পাগলা মসজিদের দানবাক্সে ৬ মাসে প্রায় ১৬ কোটি টাকা, ভাঙল আগের সব রেকর্ড

শাহজাহান সাজু, কিশোরগঞ্জ
শাহজাহান সাজু, কিশোরগঞ্জ

রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬ ৪:১৯ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী পাগলা মসজিদের ১৩টি দানবাক্স ছয় মাস পর খুলে পাওয়া গেছে ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার ১৪৬ টাকা। পাশাপাশি মিলেছে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার, রূপা ও বিদেশি মুদ্রা। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দানের অর্থ দিয়ে আন্তর্জাতিক মানের ইসলামী কমপ্লেক্স নির্মাণ এবং অসহায় রোগীদের চিকিৎসাসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা হবে।

কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী পাগলা মসজিদের দানবাক্সে এবারও দানের নতুন রেকর্ড গড়েছে। শনিবার (২৭ জুন) সকাল ৭টায় ছয় মাস পর মসজিদের ১৩টি দানবাক্স খোলা হলে সেখানে পাওয়া যায় ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার ১৪৬ টাকা। এছাড়া বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার, রূপা ও বিভিন্ন দেশের মুদ্রাও পাওয়া গেছে।

মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুস সাকিব খানের উপস্থিতিতে দানবাক্সগুলো খোলা হয়। এ সময় পুলিশ, বিজিবি, আনসারসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন।

দানবাক্স থেকে পাওয়া অর্থ ৪৩টি বস্তায় ভরে মসজিদের দ্বিতীয় তলায় নেওয়া হয়। পরে প্রায় ৪০০ মাদ্রাসাশিক্ষার্থী ও শিক্ষক এবং শতাধিক ব্যাংক কর্মকর্তার সমন্বয়ে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে টাকার গণনা সম্পন্ন হয়।

এর আগে ২০২৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর দানবাক্স খুলে ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা পাওয়া গিয়েছিল। সে সময়ও স্বর্ণালঙ্কার, রূপা ও বিদেশি মুদ্রা পাওয়া যায়। এবার সেই রেকর্ড অতিক্রম করেছে দানের পরিমাণ।

পাগলা মসজিদকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে মানুষের মধ্যে ধর্মীয় বিশ্বাস ও আস্থা রয়েছে। অনেকের বিশ্বাস, আন্তরিক নিয়তে মানত করলে বিভিন্ন মনোবাসনা পূরণ হয়। এ বিশ্বাস থেকেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চল ছাড়াও বিদেশে অবস্থানরত মানুষ নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার, বৈদেশিক মুদ্রা, গবাদিপশু ও অন্যান্য সামগ্রী দান করে থাকেন। অনলাইনেও নিয়মিত অনুদান জমা পড়ে।

ময়মনসিংহের গফরগাঁও থেকে আসা অঞ্জনা রাণী দাস বলেন, মানত পূরণ হওয়ায় তিনি নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী দান করেছেন। একইভাবে নরসিংদীর রায়পুরা থেকে আসা জামিল উদ্দিন জানান, প্রবাসে থাকাকালে করা একটি মানতের অংশ হিসেবে তিনি দেশে ফিরে একটি ছাগল দান করেছেন।

জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন জানান, এবারের দানের পরিমাণ আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। বর্তমানে দানের অর্থসহ মসজিদের ব্যাংক হিসাবে জমা রয়েছে ১৩০ কোটি ৩ লাখ ৮৭ হাজার ৪৯৮ টাকা। এই অর্থ দিয়ে আন্তর্জাতিক মানের একটি দৃষ্টিনন্দন ইসলামী কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং দ্রুত কাজ শুরুর আশা করা হচ্ছে।

জনশ্রুতি অনুযায়ী, প্রায় আড়াইশ বছর আগে এক আধ্যাত্মিক ব্যক্তি নরসুন্দা নদী ভেসে এসে বর্তমান মসজিদ এলাকায় অবস্থান নেন। তাঁর মৃত্যুর পর সমাধির পাশে গড়ে ওঠে এই মসজিদ, যা পরে 'পাগলা মসজিদ' নামে পরিচিতি লাভ করে। ১৯৭৯ সালের ১০ মে থেকে ওয়াকফ এস্টেটের অধীনে মসজিদটি পরিচালিত হয়ে আসছে।

১৩১ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন