সর্বশেষ

জাতীয়

ব্রিকসে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তিতে ইতিবাচক আশ্বাস চীনের, ১৩ সমঝোতা 

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬ ৭:৪১ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
ব্রিকসে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা নিয়ে চীনের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। বেইজিংয়ে বাংলাদেশ ও চীনের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে ব্রিকস সদস্যপদ, তিস্তা মহাপরিকল্পনা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।
বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ও চীনের প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় বৈঠক

চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ও চীনের প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে ব্রিকসে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অন্তর্ভুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠক শেষে এক ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন জানান, ব্রিকসে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততার বিষয়ে চীন ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছে এবং এ ক্ষেত্রে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।

মাহদী আমিন বলেন, ব্রিকসে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়ার বিষয়টি বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে। চীন এ বিষয়ে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

ব্রিকস বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী অর্থনৈতিক জোট হিসেবে বিবেচিত। ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে নিয়ে গঠিত এই জোট আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও ভূরাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রাখছে।

বৈঠকে তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। মাহদী আমিন জানান, প্রকল্পটির পরিকল্পনা, কারিগরি সহায়তা, বাস্তবায়ন এবং যৌথ সম্ভাব্যতা যাচাই (ফিজিবিলিটি স্টাডি) পরিচালনায় চীন আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তিনি বলেন, তিস্তা অববাহিকার উন্নয়ন, নদী ব্যবস্থাপনা, বন্যা ঝুঁকি মোকাবিলা, নদীভাঙন প্রতিরোধ এবং সেচব্যবস্থা উন্নয়নে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করতে চায়।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রসঙ্গেও আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশ স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের নীতিতে অটল রয়েছে উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, মিয়ানমারের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সংলাপ এগিয়ে নিতে চীন সহায়ক ভূমিকা পালনের আগ্রহ দেখিয়েছে।

দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে অবকাঠামো উন্নয়ন, সড়ক ও টানেল নির্মাণ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং চীনা বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। বৈঠকের পর বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিভিন্ন খাতে ১৩টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।

এদিকে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক বিনিয়োগ সম্মেলনে অংশ নিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী চীনা বিনিয়োগকারীদের দেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কারের মাধ্যমে বাংলাদেশ উৎপাদন ও শিল্প বিনিয়োগের জন্য একটি প্রতিযোগিতামূলক ও লাভজনক গন্তব্যে পরিণত হতে পারে।

সরকার বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিশেষ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, নতুন বিনিয়োগকারীদের জন্য লাইসেন্স অনুমোদনের সময় কমিয়ে আনা এবং অর্থনৈতিক অঞ্চল সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

চীন সফরের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিনিধি, বিনিয়োগকারী এবং সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সফরের লক্ষ্য হিসেবে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধি, চীনা বিনিয়োগ আকর্ষণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শিক্ষা, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

১১৪ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
জাতীয় নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন