‘হাসিনা কার্ড’ খেলে ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক সম্ভব নয়: সালাহউদ্দিন
রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০৭ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবাদ সম্মেলনের সুযোগ দেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ভারত একদিকে ‘হাসিনা কার্ড’ খেলবে, অন্যদিকে বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চাইবে—এ দুটি অবস্থান পরস্পরবিরোধী। তিনি বলেছেন, পারস্পরিক সম্মান, মর্যাদা ও সমান সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে চায় বাংলাদেশ।
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক পারস্পরিক স্বার্থ ও আন্তঃনির্ভরশীলতার ভিত্তিতে এগিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে শেখ হাসিনাকে ব্যবহারের কোনো সুযোগ দেওয়া হলে তা দুই দেশের সম্পর্কের জন্য ইতিবাচক হবে না বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে সাদা দল ও ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সম্প্রতি বলেছেন, বাংলাদেশের নতুন সরকারের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনা যেসব বক্তব্য দিয়েছেন, ভারত সেগুলো সমর্থন করে না। তাঁর প্রশ্ন, ভারত যদি এসব বক্তব্য সমর্থন না করে, তাহলে শেখ হাসিনাকে বারবার সংবাদ সম্মেলন বা বৈঠকের সুযোগ দেওয়াকে কীভাবে ব্যাখ্যা করা হবে।
তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক থাকবে। দুই দেশের মধ্যে আন্তঃনির্ভরশীলতা রয়েছে এবং এটিকে শক্তি হিসেবে বিবেচনা করে বাংলাদেশ। তবে সম্পর্ক হতে হবে পারস্পরিক সম্মান, মর্যাদা ও সমান সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা হাসিনা কার্ড খেলবেন, আবার বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কও চাইবেন—দুটি অবস্থান বিপরীতমুখী।’ এ বিষয়টি ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ও সরকার বুঝবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
শেখ হাসিনার সঙ্গে বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক পার্থক্যের কথাও তুলে ধরেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, তারেক রহমান লন্ডনে থেকে কিংবা তিনি নিজে ভারতে অবস্থান করে রাজনীতি করতে পারলে শেখ হাসিনার ক্ষেত্রেও একই প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। কিন্তু শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে পার্থক্য রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তাঁরা গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন করতে গিয়ে জোরপূর্বক নির্বাসিত হয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, তাঁরা ফ্যাসিবাদী ছিলেন না। এ জায়গাতেই তাঁদের সঙ্গে শেখ হাসিনার মৌলিক পার্থক্য রয়েছে।
ভারতের সংসদে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের দেওয়া বক্তব্যের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন সালাহউদ্দিন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন—এমন বক্তব্যের পাশাপাশি তাঁকে ভারতে যাওয়ার পর অভ্যর্থনা জানানোর বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। অন্যদিকে তাঁদের ভারতে যাওয়ার অভিজ্ঞতা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন বলে দাবি করেন তিনি।
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জাতিসংঘের প্রতিবেদনে ২০২৪ সালের আন্দোলনে ১ হাজার ৪০০-এর বেশি মানুষের নিহত হওয়ার কথা উঠে এসেছে। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর অভিযোগ, আন্দোলন দমনে হেলিকপ্টার থেকেও গুলি চালানো হয়েছিল।
এ পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনাকে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির নেতা হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া উচিত কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়েও বক্তব্য দেন তিনি। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিচারের বিষয়টি আলোচনা করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে আইনি বিধান রয়েছে। দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে নিষেধাজ্ঞা কতদিনের জন্য হবে বা স্থায়ীভাবে হবে কি না, সে বিষয়ে আইনে বিধান রয়েছে। দলটির সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের বিষয়টিও আইনে উল্লেখ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ব্যক্তি হিসেবে শেখ হাসিনা ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে বিচারপ্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। কয়েকটি মামলার বিচার শেষ হয়েছে এবং আরও মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার এগিয়ে যাবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দেশে মৃত্যুদণ্ডের রায় রয়েছে এবং আরও মামলা বিচারাধীন। তাঁর অভিযোগ, শেখ হাসিনা এখনো বাংলাদেশের মানুষের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেননি এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অংশ নেওয়া মানুষদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অভিযোগ করছেন।
১১১ বার পড়া হয়েছে