অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মহাসড়ক অবরোধ
শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬ ১০:৩২ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে ইজারা ছাড়া অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন নদীতীরবর্তী তিন গ্রামের বাসিন্দারা। শনিবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত উপজেলার বাহাদুরপুর এলাকায় অবস্থান নেন তাঁরা। এতে মহাসড়কের দুই পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নদীতীরের কৃষিজমি, বসতবাড়ি ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হুমকির মুখে পড়েছে—এমন অভিযোগ তুলে শনিবার মহাসড়ক অবরোধ করেন আশুগঞ্জের নদীতীরবর্তী তিন গ্রামের বাসিন্দারা।
বাহাদুরপুর এলাকায় মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভের কারণে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং দূরপাল্লার যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েন।
খবর পেয়ে সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য নাদিয়া পাঠান পাপন, আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জামাল হোসেনসহ পুলিশের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। তাঁরা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। পরে প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর বিক্ষোভকারীরা মহাসড়ক থেকে অবরোধ তুলে নেন।
বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনার সময় সংসদ সদস্য নাদিয়া পাঠান পাপন ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের আশ্বাস দেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী মহল কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার মেন্দিপুর এলাকায় সরকারি ইজারা নিয়ে বালু উত্তোলন করছে। তবে ইজারার নির্ধারিত স্থান ছেড়ে ওই মহল মেঘনা নদীর আশুগঞ্জ অংশের বিভিন্ন এলাকায় ঢুকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, প্রতিদিন প্রায় অর্ধশত ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে নদীর তীর ভাঙনের পাশাপাশি কৃষিজমি, তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র, জাতীয় বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের টাওয়ার, বসতবাড়ি ও অন্যান্য স্থাপনা ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। অনেক জায়গায় নদীভাঙনের কারণে জমি ও স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাঁদের।
স্থানীয় বাসিন্দারা আরও বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে তাঁরা বিভিন্ন সময় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তবে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার একই দাবিতে এলাকাবাসী মানববন্ধন করেন। মানববন্ধনের পর প্রভাবশালী মহলের পক্ষ থেকে তাঁদের ওপর হামলা ও বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন বিক্ষোভকারীরা। হুমকিদাতাদের দ্রুত গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দেন তাঁরা।
আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জামাল হোসেন বলেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ আশ্বাস দেওয়ার পর বিক্ষোভকারীরা মহাসড়ক থেকে সরে যান। অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরও বলেন, সম্প্রতি অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে অভিযান চালানো হয়েছিল। অভিযানের সময় সংশ্লিষ্টরা পালিয়ে যাওয়ায় তাঁদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। তবে একটি ভলগেটকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
১২২ বার পড়া হয়েছে